
কোনও মানুষের ৮-৯ ঘণ্টা পর আর উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না।
শেষ আপডেট: 21 January 2025 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাপ্তাহিক কাজের সময় এবং কর্মক্ষেত্র-সাংসারিক জীবনের দ্বন্দ্ব নিয়ে শিল্পপতি-পুঁজিপতিদের মধ্যে ঠান্ডাযুদ্ধ চলছেই। এল অ্যান্ড টি-র কর্তা, ইনফোসিস কর্তার পর গৌতম আদানির মতো এবার কর্মীদের স্নায়ুর চাপ কমিয়ে দিলেন সেরাম কর্তা আদর পুনাওয়ালা। মঙ্গলবার তিনি বলেন, কোনও মানুষেরই ৮-৯ ঘণ্টা পর কাজের ক্ষমতা থাকে না। সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সিইও কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনশৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, কোনও মানুষের ৮-৯ ঘণ্টা পর আর উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না।
দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম ২০২৫-এর অনুষ্ঠানে পুনাওয়ালা এদিন সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ ঘণ্টা কাজের নিদানের স্পষ্টত বিরোধিতা করেন অন্য ভাষায়। তাঁর কথায়, যদি প্রয়োজন পড়ে তখন হয়তো ৭০-৯০ ঘণ্টা কাজ করতে হতে পারে। সেটা ভালোই। আমিও করি। আমার কর্মীরাও করেন। কিন্তু কেউ রোজের জন্য এটা করতে পারে না। নিজের একটি দিনের কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুনাওয়ালা বলেন, আমি দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করি। কোনও সময় উইকএন্ডেও তা করি। আবার কোনও ছুটির দিন নিজের মতো সময় কাটাই। সবটাই নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর।
তিনি বলেন, কোভিড অতিমারির সময় আমি দিনে ১৬ ঘণ্টাও কাজ করেছি। রাত ১১টায় বাড়ি ফিরতাম কোনও কোনও দিন। আপনি যদি উদ্যোগপতি হন, তাহলে তো আপনাকে কঠিন পরিশ্রম করতেই হবে। কঠিন পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। প্রসঙ্গত, ইনফোসিস কর্তা নারায়ণ মূর্তির পর সম্প্রতি এল অ্যান্ড টি-র চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যম সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জোর সওয়াল করেছিলেন।
এদিন আরেক তথ্যপ্রযুক্তি জগতের সম্রাট নারায়ণ মূর্তি তাঁর আগের যুক্তি খানিকটা নরম করে ফেলেন। তিনি বলেছেন, ৭০ ঘণ্টা কাজের কথা বললেও কেউ এটা করাতে বাধ্য করাতে পারে না। তাঁর কথায়, আমি এটা বলেছিলাম আমার প্রথম জীবনের দিকে যখন আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে থাকতাম। আমি সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে অফিসে ঢুকতাম। আর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বেরতাম। প্রায় কমবেশি ৪০ বছর ধরে আমি এরকমটাই করেছি। এটা সত্যি, কেউ এটাকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু, এটা করতে কেউ কাউকে বাধ্য করতে পারে না বা করতেই হবে বলে নির্দেশ দিতে পারে না, বলেন নারায়ণ মূর্তি।