
বিপিন রাওয়াত।
শেষ আপডেট: 20 December 2024 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর তিনেক আগে, চেন্নাইয়ের এক চপার দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত (Bipin Rawat)। সেই দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্টে উঠে এল চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। হিউম্যান এরর। মানবিক ত্রুটি। পাইলটের ভুলেই সেদিন ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর কুন্নুরের পাহাড়ি অঞ্চলে ভেঙে পড়ে মি-১৭ ভি৫ চপার। তাতে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত-সহ ১৩ জন সেনাকর্মী। সকলেই প্রাণ হারান। তিন বছর পর, ১৮তম লোকসভার স্থায়ী প্রতিরক্ষা কমিটির রিপোর্টে জানানো হল, এই দুর্ঘটনার কারণ, পাইলটের ভুল।
২০২১ সালের ওই দিনে মি-১৭ ভি৫ চপারটি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের সুলুর এয়ার ফোর্স বেস থেকে ওয়েলিংটনের ডিফেন্স স্টাফ সার্ভিসেস কলেজে যাচ্ছিল। অবতরণের কয়েক মিনিট আগে সেটি দুর্ঘটনা ঘটায়। ভেঙে পড়ে দাউদাউ করে জ্বলে যায়। ঝলসানো অবস্থায় বিপিন রাওয়াতকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার দৃশ্য সামনে আসে, দেখে কেঁপে যায় গোটা দেশ।
তবে শেষরক্ষা হয়নি। বাঁচানো যায়নি কাউকেই। গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং ছিলেন এই দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, দুর্ঘটনার পর তীব্র দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁকে তামিলনাড়ুর ওয়েলিংটন থেকে বেঙ্গালুরুর সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শৌর্য চক্রে ভূষিত এই অফিসার কিছুদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান।
লোকসভায় প্রকাশিত স্থায়ী প্রতিরক্ষা কমিটির রিপোর্টে জানানো হয়েছে, যে ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ত্রয়োদশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সময়কালে ভারতীয় বায়ুসেনার মোট ৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৯টি দুর্ঘটনা হয়, যার মধ্যে জেনারেল রাওয়াতের চপার দুর্ঘটনার জন্য মানবিক ত্রুটিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে চপার মেঘে প্রবেশ করা। এতে পাইলটের এলাকাগত বিভ্রান্তি ঘটে এবং চপারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ে ধাক্কা মারে।
তদন্তে ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, যে চপারটি 'কন্ট্রোলড ফ্লাইট ইনটু টেরেন'-এর শিকার হয়েছিল।
এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে আলোচনার কথা বলেছেন। পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।