
তিরুপতির লাড্ডু।
শেষ আপডেট: 20 September 2024 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিরুপতির বালাজি মন্দিরের লাড্ডু নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। গতকালই অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু অভিযোগ তুলেছিলেন, তিরুপতির লাড্ডুতে পশুর চর্বি ও তেল মেশানোর হতো আগের সরকারের আমলে। এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হয়েছে পরীক্ষায়। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিরুপতির লাড্ডু তৈরিতে ব্যবহৃত ঘিয়ে মাছের তেল, গরুর চর্বির নমুনা পাওয়া গিয়েছে। এমনকী শুয়োরের চর্বিও মিলেছে। তাতেই ছিছিক্কার পড়ে গেছে গোটা দেশে।
কারণ তিরুপতির বালাজি মন্দিরের লাড্ডু অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রসাদ বিশ্বাসীদের কাছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লাড্ডু তৈরি করা হয় এখানে। দাম দিয়ে তা কিনতে পারেন ভক্তরা। এই লাড্ডুর চাহিদা এত বেশি, যে এই নিয়ে দালালচক্রও বেড়ে উঠেছিল মন্দিরে। সম্প্রতি তা বন্ধ করতে লাড্ডু কিনতে হলে আধার কার্ড দেখানোর নিয়ম করেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যেই সামনে এল ভয়ানক অভিযোগ। ভক্ত ও বিশ্বাসীদের রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে গরু ও শুয়োরের চর্বির ব্যবহারের কথা জেনে।
বালাজি মন্দিরের যে রান্নাঘরে এই লাড্ডুগুলি তৈরি করা হয় তাকে বলা হয় লাড্ডু পোট্টু। আগে কাঠের উনুনে এই লাড্ডু প্রসাদ তৈরি হলেও, ১৯৮৪ সাল থেকে এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। তিরুপতি বালাজির এই বিশ্ববিখ্যাত লাড্ডুগুলি খুবই নিখুঁতভাবে তৈরি করেন কারিগররা। এখানে প্রতিদিন সাড়ে তিন লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ লাড্ডু তৈরি হয়।
এই লাড্ডুর বিশেষত্ব হল এটি সাধারণ লাড্ডুর মতো গোল নয়, এর আকার ডিমের মতো। তবে প্রতিটি লাড্ডু দেখতে একই রকম এবং এমনকি প্রতিটি মিষ্টির ওজনও সুনির্দিষ্ট।

বেসন, চিনি, কাজুবাদাম, এলাচ, ঘি, চিনির মিছরি এবং কিশমিশ দিয়ে তৈরি করা হয় এই লাড্ডু। এই লাড্ডু তৈরিতে প্রতিদিন ১০ টন বেসন, ১০ টন চিনি, ৭০০ কেজি কাজুবাদাম, ১৫০ কেজি এলাচ, ৩০০ থেকে ৪০০ লিটার ঘি, ৫০০ কেজি মিছরি ও ৫৪০ কেজি কিশমিশ ব্যবহার করা হয়।
১৭১৫ সাল থেকে এই লাড্ডু তৈরি হচ্ছে বালাজি মন্দিরে। এখনও পর্যন্ত লাড্ডু তৈরির প্রক্রিয়ায় মাত্র ৬ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। খুব কম সংখ্যক রাঁধুনিকেই এটি তৈরি করার সম্মান এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে, তিরুপতি লাড্ডু তার নিজস্ব জিআই ট্যাগ পেয়েছে।
বালাজির বিশাল রান্নাঘরে প্রতিদিন তৈরি হয় লাড্ডু। এই রান্নাঘর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রান্নাঘরও বটে। জানা গেছে, আগে বিভিন্ন মুভিং বেল্ট ব্যবহার করে তৈরি করা হত এই লাড্ডু। গত বছর জানা গেছিল, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং সুইজারল্যান্ড থেকে ৫০ কোটি টাকার কিছু মেশিন আমদানি করা হয়েছে, যার ফলে লাড্ডু তৈরির কাজটিই সম্পূর্ণ অটোমেটিক হয়ে যাওয়ার কথা। এখন এই লাড্ডু তৈরিতে কাজ করেন ৬০০ কর্মী। তাঁদের কেউ চুক্তিবদ্ধ আবার কেউ স্থায়ী শ্রমিক।

প্রসাদে তিন ধরনের লাড্ডু রয়েছে। এদের নাম হল, প্রোকথাম, অস্থানাম এবং কল্যাণোৎসব। প্রোকথাম লাড্ডু হল ছোট লাড্ডু, যার প্রতিটির ওজন ৬০-৭৫ গ্রাম। বেশিরভাগ দর্শনার্থীদেরই এই লাড্ডু পরিবেশন করা হয়। একই সময়ে, উৎসবের সময় অস্থানাম লাড্ডু তৈরি করা হয়, যার প্রতিটির ওজন ৭৫০ গ্রাম করে। বিশেষ প্রকারের কল্যাণোৎসব লাড্ডু তৈরি করা হয়, যাঁরা কল্যাণোৎসবমে অংশগ্রহণ করেন তাঁদের জন্য।
এই লাড্ডু প্রসাদকে তিরুপতি মন্দিরের আয়ের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বছরে প্রায় ৫০০-৬০০ কোটি টাকা লাড্ডু বেচে আয় করে ট্রাস্ট। মন্দিরের পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করা হয় প্রসাদ। এখানে একটি সাধারণ লাড্ডুর দাম ৫০ টাকা।
বিখ্যাত এই নৈবেদ্য পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় ভক্তদের। রীতিমতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে, নিজস্ব নিরাপত্তা কোড, ফেসিয়াল রেকগনিশন ও বায়োমেট্রিক বিবরণ সহ একটি কুপন সংগ্রহ করে, তবে পৌঁছনো যায় কাউন্টারে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিটি টিকিটের বৈধতা পরীক্ষা করে দেখেন এবং লাড্ডু দেন কুপনের বদলে।