
শেষ আপডেট: 28 November 2023 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১২ নভেম্বর উত্তরকাশীর নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আটকে পড়েন ৪১ জন শ্রমিক। ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সিল্কিয়ারা-বারকোট টানেলের একটি অংশ ধসেই সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে পড়েন শ্রমিকেরা। টানা ১৭ দিন তাঁদেরকে উদ্ধার করার জন্য বিভিন্ন পথে চলছে উদ্ধারকাজ। একটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে শুরু হয়েছে অন্য উপায়। অবশেষে আসতে চলেছে সাফল্য।
মঙ্গলবার ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে একটি পাইপ ঠেলে দিতে পেরেছেন উদ্ধারকারীরা। উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের র্যাট মাইন শ্রমিকদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরু হয়েছিল। এরপর অগার ড্রিলিং মেশিন ব্যবহার করা হয় এবং সুড়ঙ্গের শেষ ১২ মিটার ম্যানুয়াল ড্রিলিং-এর মাধ্যমে খোঁড়া হয়েছিল। ঠিক কীভাবে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়? সেবিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
কীভাবে র্যাট মাইনররা উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করেন
সোমবার রাতে তিন সদস্যের র্যাট মাইনরদের একটি দল পাইপের মধ্যে প্রবেশ করেন এবং ধ্বংসাবশেষের কাছে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে থাকে। এঁদের মধ্যে একজন গর্ত খুঁড়তে থাকেন, দ্বিতীয়জন ধ্বংসাবশেষ ট্রলিতে রাখছিলেন এবং তৃতীয় ব্যক্তি যে শ্যাফটের মাধ্যমে বের করা হয়েছিল সেটিতে ট্রলি রেখেছিল। সবমিলিয়ে তাঁরা প্রতি ঘন্টায় ০.৯ মিটার খনন করতে পেরেছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতি ঘণ্টায় র্যাট মাইনর দলের তিন সদস্য যোগ দেয়। মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ তারা ১২-১৩ মিটার ড্রিল করে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায়।
টানেল থেকে কীভাবে শ্রমিকদের বের করে হবে
উদ্ধারকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, একবার ড্রিলিং করা হয়ে গেলে চওড়া পাইপগুলির মাধ্যমে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দিয়ে একটি টানেল তৈরি করা হয়। যা হয়ে গেলে অক্সিজেন কিট পরে চাকা লাগানো স্ট্রেচারের পাইপের মাধ্যমে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকবে ন্যাশনাল ডিসাসস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)। সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাবেন দড়ি, অক্সিজেন কিট। এরপর ডাক্তার এবং প্যারামেডিক্যাল প্রতিনিধিদের চাকা লাগানো স্ট্রেচারে করে ভিতরে পাঠানো হবে এবং তারপরে তাঁরা আটকে পড়া শ্রমিকদের জরুরি শারীরিক পরীক্ষা করবেন। এরপর পাইপ টানেল থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হবে সেবিষয়ে শ্রমিকদের পরামর্শ দেওয়া হবে। স্ট্রেচারটি দুদিক থেকে দড়ি দিয়ে বেঁধে একে একে শ্রমিকদের বের করা হবে। একেবারে শেষে টানেল থেকে বেরিয়ে আসবেন এনডিআরএফ কর্মীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সমগ্র কর্মকাণ্ড চলবে।
শ্রমিকদের কীভাবে খাবার এবং জরুরি জিনিসপত্র পাঠানো হয়েছিল
আগে ৪ ইঞ্চি পাইপের মাধ্যমে আটকে পড়া শ্রমিকদের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর গত ২০ নভেম্বর সলিড খাবার পাঠানোর জন্য উদ্ধারকারীরা বড় ছয় ইঞ্চি পাইপ বসায়। আগের পাইপ ব্যবহার করে বাদাম, রোস্টেট ছোলা শ্রমিকদের পাঠানো হয়। এরপর নতুন পাইপের মাধ্যমে শ্রমিকদের পুষ্টির জন্য রুটি, সবজি ও ফল পাঠানো হয়।
চূড়ান্ত উদ্ধারকাজের জন্য অগার মেশিন কী সাহায্য করেছিল
অগার মেশিনে রয়েছে ব্লেডের মতো হেলিক্যাল স্ক্রু যা অগার বিট নামে পরিচিত। কোনও গর্ত তৈরির জন্য এটি ঘোরানো হয়। শুক্রবার মেশিনটি ভেঙে যাওয়ার আগে ৫৫ মিটার ড্রিল করেছিল। সিল্কিয়ারা টানেল অপারেশনে আমেরিকান অগার ৬০০-১২০০ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অনুভূমিক ড্রিলিং ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্কিন কোম্পানি বিশেষ প্রযুক্তিতে এটি তৈরি হয়েছিল। মেশিনটি ৫ থেকে ১০ মিটার ডায়ামিটারে ড্রিল করে গর্ত করে। মেশিনটি এক মিটার ড্রিল করতে এক ঘণ্টা সময় নেয় এবং পাইপে ফিট করতে ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে।