
শেষ আপডেট: 13 November 2023 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড সংক্রমণের সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে নিউমোনিয়ার। তবে কোভিড-১৯ যেমন আরএনএ ভাইরাস ঘটিত রোগ, নিউমোনিয়ার কারণ ব্যাকটেরিয়া। তবে ব্যাকটিরিয়া ছাড়াও ছত্রাক ও ভাইরাসঘটিত কারণেও শরীরে দানা বাঁধতে পারে নিউমোনিয়া। চিকিৎসকরা বলছেন, ভ্যাকসিন না নিলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে নিউমোনিয়া। শিশু ও বয়স্কদের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
শীতের শুরুতে সর্দি-কাশি বাড়ে। বেড়ে যায় নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যাও। বেশি আক্রন্ত হন শিশু ও প্রবীণরা। ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া’, ‘হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা’, ‘মোরাক্সেলা ক্যাটারহালিস’ এবং ‘ক্লেবসিয়েলা’-সহ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।
করোনার মতোই উপসর্গ দেখা যায় নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রেও। ধুম জ্বর, প্রবল কাশি, বুকে সংক্রমণ এর প্রাথমিক উপসর্গ। সংক্রমণ গভীরে ছড়ালে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মূলত ক্রনিক ঠান্ডা লাগা, বুকে শ্লেষ্মা জমে থাকার কারণেই এই অসুখ ছড়াতে শুরু করে। শীতের সময় শুষ্ক আবহাওয়ায় নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকেও কেউ কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, মূলত, বয়স্ক ও শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসের সমস্যা শুরু হয়। তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হয় ফুসফুসে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতেও দেখা যায়।
নিউমোনিয়া হলে ফুসফুস ক্রমশ কঠিন হয়ে শুরু করে। ডাক্তারি মতে একে বলা হয় কনসোলিডেশন। এক্স রে করলে সাদা দেখতে লাগে। প্রতি বছর ৮ লক্ষেরও বেশি শিশু প্রাণ হারায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ১৫ শতাংশের মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া। আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি, থুতু থেকে নিউমোনিয়ার জীবাণু ছড়াতে পারে। করোনার মতো একেও ড্রপলেট ইনফেকশন’ বলা হয়। কিন্তু ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই মেলে। নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী সবকটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করতে পারে ভ্যাকসিন।