
শেষ আপডেট: 29 March 2024 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে!
পরিবারের গভীরে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের শিকড়! অথচ এহেন পরিবারের সন্তান মুখতার আনসারির নামই গোটা রাজ্যে হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাসের সমার্থক! কীভাবে অপরাধী হয়ে উঠলেন? কীভাবেই বা অপরাধের গলি থেকে রাজনীতির হাত ধরে ক্ষমতার করিডরে পৌঁছলেন? কেমন ছিল সেই যাত্রা?
বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের বান্দায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার তথা পাঁচবারের বিধায়ক মুখতার আনসারির। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের রোজা ভাঙার পর ৬৪ বছর বয়সি এই রাজনীতিকের স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
উত্তরপ্রদেশের মৌ থেকে পাঁচবারের বিধায়ক, মুখতার আনসারির বিরুদ্ধে ৬০ টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন ছিল এবং তাকে বান্দা জেলা কারাগারে রাখা হয়েছিল।
মুখতারের ঠাকুর্দা আহমেদ আনসারি ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে ১৯৪৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নওশেরা সেক্টরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হয়েছিলেন দাদামশাই মহম্মদ উসমানও। সরকার তাঁকে মরণোত্তর মহা বীর চক্রে ভূষিত করেছিল৷
১৯৬০ সালে উত্তর প্রদেশের ইউসুফপুরে জন্ম মুখতার আনসারির। মাত্র ২০ বছরের বয়সেই অন্ধকার জগতে প্রবেশ মুখতারের৷ দ্রুত সেই পথে তাঁর উন্নতিও হতে থাকে৷ এক সময় উত্তরপ্রদেশ জুড়ে তাঁর নাম সন্ত্রাসের সমার্থক হয়ে ওঠে। হত্যা, খুনের চেষ্টা, সশস্ত্র দাঙ্গা এবং জালিয়াতি-সহ অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ১৯৮৮ সালে মুখতারের বিরুদ্ধে প্রথম বড় অপরাধে অভিযোগ ওঠে। গাজীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুন হতে হয়েছিল সচ্চিদানন্দ রাইকে। প্রধান অভিযুক্ত মুখতার। ওই সময় থেকে ২০০৯ পর্যন্ত একের পর এক হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে মুখতারের বিরুদ্ধে।
অপরাধ জগতের পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতেও প্রবেশ করেন মুখতার। নাম লেখান বহুজন সমাজ পার্টিতে। মৌ বিধানসভা থেকে বিএসপির টিকিটে সেবারে প্রথম ভোটে দাঁড়িয়ে জেতা। টানা পাঁচবার ওই কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। পরে বিএসপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর কোয়ামি একতা দল (কিউইডি) গঠন করেছিলেন মুখতার।
রাজনীতির দৌলতে অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দরিদ্রদের মসিহা। অনেকের কাছে তিনি আবার সন্ত্রাসের সমর্থক! স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর পরেও তাই খবরের শিরোনামে আনসারি। কেউ তাঁর এমন পরিণতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন, কেউ বা হাঁফ ছেড়ে বাঁচছেন।