
আনমোল শ্রীবাস্তব
শেষ আপডেট: 21 December 2024 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া থেকে এলিফ্যান্টা আইল্যান্ডের দিকে যেতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে যে কজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে তাদেরও হয়তো বাঁচানো যেত না যদি একটি কারগো জাহাজের পন্য লোডিংয়ে দেরি না হত। সেই জাহাজের ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তের কারণেই বেঁচে গেছেন ৫৬ জন।
জওহরলাল নেহরু বন্দর থেকে ওই কারগো জাহাজ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তাতে লোডিংয়ে দেরি হওয়ায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে যেতে হয় ক্যাপ্টেন আনমোল শ্রীবাস্তবকে। এরই মধ্যে ঘটে যায় লঞ্চডুবির ঘটনা। জাহাজ ছাড়তে দেরি হওয়ায় ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে নিজের একটি বোট নিয়ে পৌঁছতে পেরেছিলেন আনমোল। যার জন্য বেঁচে গেছে অনেকগুলি প্রাণ।
ঘটনার দিন ১টা ৪৫ নাগাদ ওই বন্দর থেকে কারগো জাহাজ ছাড়ার কথা ছিল। তবে তা ১ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়া হবে বলে জানতে পারেন আনমোল। এই সময়টা যখন তিনি অপেক্ষা করছিলেন তখনই তাঁর কাছে একটি 'এসওএস' ফোন কল আসে। তিনি জানতে পারেন লঞ্চডুবির কথা। কোনও সময় নষ্ট না করেই ৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তিনি।
সমুদ্রের দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে আনমোল দেখেন, প্রায় সব যাত্রীরাই জলে ভাসছেন। তাদের কারও কাছেই লাইফ জ্যাকেট ছিল না। আনমোল যে বোট নিয়ে গেছিলেন তা থেকে কয়েকটি জ্যাকেট তিনি ছু়ড়ে দেন। এরপর একে একে যাত্রীদের বোটে তুলতে থাকেন। সবাই একসঙ্গে প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন স্বাভাবিকভাবেই। তবে আনমোল প্রথম বাচ্চা এবং মহিলাদেরই প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
আনমোল যে বোট নিয়ে গেছিলেন তাতে সর্বসাকুল্যে ১২ জন ধরার কথা। কিন্তু নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওই বোটেই কোনওভাবে ৫৭ জনকে তুলেছিলেন তিনি! এদের মধ্যে এক ৭ বছরের নাবালকও ছিল। যদিও তাকে সিপিআর দিয়েও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বাকিরা সকলেই প্রাণে বেঁচে যান।
জওহরলাল নেহরু পোর্ট অথোরিটি জানিয়েছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি আনমোল শ্রীবাস্তবকে সম্মানিত করা হবে তাঁর সাহসিকতার জন্য।