বুধবার রাতে চুরুর রাতনগরে তাঁকে পাকড়াও করে এটিএস (ATS) এবং অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF)। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা।

এনএসজি-র প্রাক্তন কমান্ডো বজরং সিং
শেষ আপডেট: 3 October 2025 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় যিনি হাতে অস্ত্র তুলে মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হামলার (26/11 Attack) বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, তিনিই আজ ধরা পড়লেন মাদক পাচারের (Drug Kingpin) মাফিয়া হিসেবে। রাজস্থান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন এনএসজি-র প্রাক্তন কমান্ডো বজরং সিং (Bajrang Singh)। বুধবার রাতে চুরুর রাতনগরে তাঁকে পাকড়াও করে এটিএস (ATS) এবং অ্যান্টি-নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF)। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০০ কেজি গাঁজা। পুলিশের দাবি, তিনিই রাজস্থানে গাঁজা সিন্ডিকেটের মূল ‘কিংপিন’।
মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন বজরং। কিন্তু লম্বা চওড়া চেহারা, ফিটনেসের জোরে যোগ দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সে (BSF)। পাঞ্জাব, অসম, রাজস্থান, ওড়িশা, বাংলার সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানেই নজরে পড়েন উর্ধ্বতনদের। নির্বাচিত হন এনএসজি কমান্ডো হিসেবে। সাত বছর দেশরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮-এ মুম্বইয়ের ২৬/১১ সন্ত্রাসবাদী দমন অভিযানে ছিলেন প্রথম সারিতে।
কিন্তু ২০২১-এর পর থেকে চিত্র পাল্টে যায়। গ্রামে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান বজরং। স্ত্রীকেও পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড় করান, যদিও জেতাতে পারেননি। রাজনীতি থেকেই অপরাধ জগতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ শুরু বলে পুলিশ মনে করছে। ওড়িশা-তেলঙ্গানার পুরনো পরিচিতদের কাজে লাগিয়ে গাঁজা পাচার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েন তিনি। ছোটখাটো চালানে নয়, একেবারে কুইন্টালের পর কুইন্টাল গাঁজা রাজস্থান পৌঁছে দিতে শুরু করেন। অল্প সময়ে হয়ে ওঠেন সিন্ডিকেটের মাথা।
২০২৩ সালে একবার হায়দরাবাদের কাছে ২ কুইন্টাল গাঁজা-সহ ধরা পড়েছিলেন বজরং। কিন্তু পরে আবার লুকিয়ে পড়েন। ভুয়ো মোবাইল আইডি, এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রামে ঘোরাঘুরি করে এড়াতে থাকেন পুলিশকে। দু’মাস ধরে নজরদারির পর অবশেষে সূত্র মেলে তাঁর ‘কুক’-এর মাধ্যমে। তার যোগাযোগ খুঁজে পেয়ে টেকনিক্যাল টিম জানতে পারে বজরং লুকিয়ে আছে চুরুর রাতনগরে।
বুধবার রাতে বাইকে চলাফেরা করার সময় তাঁকে শনাক্ত করে পুলিশ। প্রাক্তন কমান্ডো হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েনি পুলিশ। বরং গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে তাঁর আস্তানায় হানা দেয়। আচমকা অভিযানে গ্রেফতার হয় বজরং সিং।
রাজস্থান পুলিশের আইজি বিকাশ কুমার বলেন, ‘‘দুই মাসের কঠোর অভিযানের ফল এটি। বজরং-এর মতো অভিজ্ঞ ও কঠিন অপরাধীকে গ্রেফতার করা শুধু মাদক নয়, সন্ত্রাস-নারকোটিক্স জোটকেও দুর্বল করবে।’’