প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 March 2025 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার বাবা ও মেয়ের দেহ। দু'জনেই পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক (Homeopathy Doctor) ছিলেন বলে খবর। রবিবার মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভোপালের (BHopal) বাড়ি থেকে দু'জনের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট না হলেও ঘর থেকে একটি চার পাতার চিঠি (Notes) উদ্ধার হয়েছে। তা হাতে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে পুলিশের।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চিঠিতে লেখা আছে, মৃত্যুর পর তাঁদের দু'জনের দেহ যেন মেডিক্যাল পড়ুয়াদের লেখাপড়ার জন্য যেন ভোপাল এইমসে দান করে দেওয়া হয়। কিন্তু আচমকা কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন তাঁরা? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে চিঠিটি হাতে আসতেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দু'জনেই চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা এমন কাণ্ড ঘটালেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না স্থানীয়রাও।
রবিবার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রৌঢ় বাবা (৮২) ও ৩৬ বছর বয়সি চিকিৎসক মেয়ের দেহ উদ্ধার করে। প্রৌঢ় চিকিৎসকের দেহ ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল এবং পাশের ঘরে মেঝেতে মেয়ের দেহ পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মৃত চিকিৎসক এবং তাঁর কন্যার নাম হরিকৃষ্ণ এবং চিত্রা শর্মা। ইতিমধ্যে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোপালে নিজের বাড়িতেই চিকিৎসা করতেন হরিকৃষ্ণ এবং তাঁর মেয়ে চিত্রা। রবিবার এক রোগী তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয়। এরপর জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই চিকিৎসকের মৃতদেহ দেখতে পান তাঁরা। তারপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
চিঠির লেখা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে প্রৌঢ় চিকিৎসকের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও মেয়ে চিত্রার কীভাবে মৃত্যু হলে তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। উদ্ধার হওয়া চিঠি থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, চার বছর আগেই স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর থেকেই বাবা ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরেই নিজেদের শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর বছরখানেক আগে হরিকৃষ্ণের পুত্রেরও মৃত্যু হয় বলে খবর।
স্থানীয়দের মতে, কোভিডের সময় বাবা-মেয়ে জুটি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং সবসময় মানুষকে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু বাবা ও মেয়ের আচমকা এমন পরিণতি কেউই মেনে নিতে পারছেন না।