
গৃহবধূদের পাশে সুপ্রিম কোর্ট।
শেষ আপডেট: 10 July 2024 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারী অধিকার নিয়ে সরব সুপ্রিম কোর্ট। আজ, বুধবারই শীর্ষ আদালত ঐতিহাসিক রায় দিয়ে জানিয়েছে, বিবাহবিচ্ছিন্ন মুসলিম মহিলারাও খোরপোশের দাবিদার। একই দিনে আরও একটি রায়ে দেশের সমস্ত গৃহবধূর পাশে দাঁড়াল ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা।
আদালত এদিন একটি পর্যবেক্ষণে জানায়, বাড়ির বধূদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বামীর সঙ্গে ‘জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট’ এবং এটিএম কার্ড ব্যবহারের অধিকার থাকা উচিত। আদালতের মন্তব্য, 'গৃহবধূদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়ার সময় এসেছে।'
এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং অগাস্টিন জর্জ ম্যাসির বেঞ্চে মহম্মদ আবদুস সামাদ নামের এক মুসলিম পুরুষের মামলার শুনানি চলছিল। তিনি বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রীর আনা ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ ধারা মোতাবেক খোরপোশের আবেদনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, আদালত তাঁর আর্জি খারিজ করে দেয়। জানিয়ে দেয়, বিবাহবিচ্ছিন্নাদের অধিকার রক্ষা আইন, ১৯৮৬ অনুসারে মুসলিম মহিলাদের আলাদা করে দেখা যায় না। ধর্মনিরপেক্ষতার চোখে দেখতে হবে তাঁদের। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ হলে হিন্দু মহিলাদের মতোই মুসলিম মহিলারাও স্বামীর কাছে খোরপোশ দাবি করতে পারেন।
সম্প্রতি তেলঙ্গানা হাইকোর্ট আবেদনকারী মহম্মদ আবদুস সামাদকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। এদিন সেই আর্জি খারিজ হয়ে যায় সর্বোচ্চ আদালতেও। এক যুগান্তকারী রায়ে শাহ বানো মামলাতেও সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, খোরপোশের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলারাও তা পাওয়ার যোগ্য।
উল্লেখ্য, আবেদনকারী হাইকোর্টে বলেছিলেন যে, মুসলিম পার্সোনাল ল অনুসারে ২০১৭ সালে তাঁদের ডিভোর্স হয়েছিল। কিন্তু, সেই আর্জি নাকচ করে দিয়ে উচ্চ আদালত জানিয়ে দেয় প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসে ১০ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে হবে এবং পারিবারিক আদালতকে ৬ মাসের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।
এর পরে আবদুস সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, সেখানেও ধাক্কা খেলেন। খোরপোশ তাঁকে দিতেই হবে। বুধবার এই রায় দেওয়ার পরেই বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও বিচারপতি অগাস্টাইন জর্জ ম্যাসির বেঞ্চ মন্তব্য করে, 'আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, গৃহবধূকে অর্থনৈতিক অধিকার দেওয়া স্বামীর কর্তব্য হওয়া উচিত। এর জন্য স্বামীর সঙ্গে জয়েন্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা উচিত স্ত্রীর এবং এটিএম কার্ড ব্যবহারের সুযোগও থাকা উচিত।'
এদিন বিচারপতি নাগরত্ন আরও বলেন, 'অনেক স্বামীরা বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের স্ত্রী, যাঁরা গৃহবধূ, তাঁদের উপরে মানসিক দিক থেকে কতটা নির্ভরশীল। সময় এসেছে ভারতীয় পুরুষদের গৃহবধূদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়ার।'