
শেষ আপডেট: 1 February 2024 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩১ বছর পর ভেসে এল ঘণ্টাধ্বনি। আদালতের নির্দেশের পর বারাণসীতে খুলল জ্ঞানব্যাপী মসজিদের বেসমেন্ট। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মধ্যরাতে হল পুজো, মঙ্গলারতি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর পরই উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পুজো।
বুধবার বারাণসীর জেলা আদালত জানিয়েছে, জ্ঞানবাপী মসজিদের একতলার একাংশে হিন্দুরা পুজো করতে পারবেন। আদালতের এই নির্দেশের পর এদিন সন্ধ্যা থেকেই জ্ঞানবাপী মসজিদের বাইরে কোলাহল শুরু হয়ে যায়। এরপর রাত ১০টা নাগাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছন বারাণসীর জেলাশাসক এবং ডিআইজি। প্রশাসনের নির্দেশে মসজিদের বেসমেন্ট চত্বর থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। রাত থেকেই যে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতা নিচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
রাত ১টা নাগাদ মসজিদের নীচে ‘ব্যাস কা তেহখানা’য় প্রবেশ করেন হিন্দুপক্ষের মামলাকারীরা। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পুজারী সহ মোট পাঁচজন। এরপর রাত ২টো নাগাদ পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসক একসঙ্গে বেসমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসেন। মধ্যরাতে পুজোর সময় উপস্থিত ছিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্তারা। বারাণসীর জেলাশাসক কৌশল রাজ শর্মাও। ওম প্রকাশ মিশ্র নামক এক পুরোহিতকে গর্ভগৃহে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ট্রাস্টের তরফে।
বেসমেন্টে পুজোর অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল হিন্দুপক্ষ। জ্ঞানবাপীর এই বেসমেন্টে বিগত ৩১ বছর ধরে পুজার্চনা বন্ধ ছিল। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মসজিদের ওই অংশে হিন্দুদের পুজোপাঠের অনুমতি ছিল। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, অশান্তির কারণে তৎকালীন মুলায়ম সিং সরকার পুজোর অনুমতি বাতিল করে দেয়। সেই থেকে মামলা চলছিল জেলা আদলতে। বারাণসী জেলা আদালতের বিচারক কেএম পাণ্ডের নির্দেশকে অযোধ্যায় রাম মন্দির মামলার রায়ের সঙ্গে তুলনা টানছে হিন্দুপক্ষ।
প্রসঙ্গত, জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে আর একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে আরকিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া তাদের জরিপ রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, মসজিদের পশ্চিম অংশের কাঠামোর একাংশ মন্দিরের অংশ। পাশেই রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। সেই মন্দির ভেঙে ঔরঙ্গজেব মসজিদ বানিয়েছিলেন বলে হিন্দুপক্ষ আদালতে দাবি করে মন্দিরের অংশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।