
হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 August 2024 09:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমে নওগাঁ জেলায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে রাজ্যের মিয়া মুসলিমদের উপর খড়্গহস্ত মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর বক্তব্য, অসমকে কিছুতেই মিয়া মুসলিমদের হাতে তুলে দিতে পারি না।
এর আগে মন্তব্য করেছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে মুসলিমরা অসমে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে। এটা কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না। বুধবার বলেছেন, অসমে কী করে মুসলিম জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে তা নিয়ে সরকার শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে।
রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে এবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন অসমের বিরোধী দলগুলির সর্ববৃহৎ মঞ্চ ইউনাইটেড অপজিশন ফোরাম। তাতে কংগ্রেস ছাড়াও আছে অসম জাতীয় পরিষদ এবং আরও কয়েকটি ছোট দল। এছাড়া আছেন বেশ কয়েকজন নির্দল এমপি-এমএলএ।
দিশপুরের একটি থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টার অভিযোগপত্রে সই করেছেন অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ভূপেন বোরা, জাতীয় পরিষদের লুরিঙজ্যোতি গগৌ, অসমের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সইকিয়া, রাজ্যসভার নির্দল সাংসদ অজিত ভূঁইঞা, কংগ্রেসের ধূবরির এমপি রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ। অভিযোগ দায়েকের কথা স্বীকার করেছেন গুয়াহাটি উত্তর-পূর্বের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মৃণাল ডেকা। পুলিশ অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করলেও এফআইআর দায়ের করেনি। সরকারের উচ্চতম মহল থেকে সবুজ সংকেত না পেয়ে পুলিশ এগবে না, জানিয়েছেন ডেকা।
অসমে মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা বাংলাভাষী মুসলিমদের মিয়া মুসলিম বলা হয়ে থাকে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই এই সম্প্রদায়কে টার্গেট করেছেন। নাবালিকাকে গণধর্ষণের দায়ও তিনি মিয়া মুসলিমদের উপর চাপিয়েছেন। গত ২২ অগাস্টের ঘটনা নিয়ে হিমন্ত ও তাঁর নেতা-মন্ত্রীরা লাগাতার মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করে চলেছেন।
এরই মধ্যে অসমের শিবসাগর জেলায় হিন্দি ও বাংলাভাষীদের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে পরিস্থিতি তেঁতে আছে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর উসকানিমূলক বয়ানে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ছে।