
জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 19 February 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিতে চলেছেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি রাজীব কুমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। মঙ্গলবার শেষ হয়েছে রাজীব কুমারের কার্যকাল।
জ্ঞানেশ কুমার গত বছরের মার্চ মাস থেকে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কেরল ক্যাডারের এই আইএএস অফিসার গত বছর জানুয়ারিতে অবসর নেওয়ার আগে ছিলেন দেশের সমবায় মন্ত্রকের সচিব। তার আগে দীর্ঘদিন ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। সেই সূত্রে তিনি স্বরাষ্ট্র এবং সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে সরকারি মহলে খবর। ২০১৯-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে থাকাকালে রামজন্মভূমি ট্রাস্ট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ওই বছরই জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশ ভেঙে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর নামে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গঠনেও নেতৃত্ব দেন তিনি।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে পরবর্তী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তথা সিইসি হিসাবে বেছে নেওয়া হয়।
কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। যে নতুন আইনে নির্বাচন কমিশনার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে সেটির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে। বুধবারই সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। বৈঠকে রাহুল গান্ধী দাবি করেন শীর্ষ আদালতের রায় ঘোষনা পর্যন্ত নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরকার মানেনি। সোমবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দেয় পরবর্তী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হবেন জ্ঞানেশ কুমার।
সরকারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত অসৌজন্য এবং অমর্যাদাকর বলে মন্তব্য করেছেন রাহুল গান্ধী। সরব হয়েছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সরকারই শেষ কথা হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, বছর দেড়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের শেষ কথা বলার নিয়মের অবসান ঘটিয়ে রায় দেয়। শীর্ষ আদালত প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়। বাকি দুই সদস্য হিসাবে শীর্ষ আদালত বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নাম প্রস্তাব করে।
নরেন্দ্র মোদীর সরকার সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় মানেনি। সংসদে কেন্দ্র নির্বাচন কমিশনার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত যে নতুন আইন পাশ করিয়েছে তাতে নিয়োগ কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে রাখা হয়নি। পরিবর্তে মন্ত্রিসভার একজন প্রবীণ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই সূত্রে কমিটির সদস্য অমিত শাহ। শীর্ষ আদালত ওই আইন খারিজ করে দিলে জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে।
তিনি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার থাকলে চলতি বছরের নভেম্বরে বিহার বিধানসভার নির্বাচন পরিচালনা করবেন। পরের বছর পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরি বিধানসভার নির্বাচনেও তিনিই কমিশনকে নেতৃত্ব দেবেন। ২০২৯-এ লোকসভা ভোটের আগে তিনি অবসর নেবেন।