
নরেন্দ্র মোদী এবং রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 15 July 2024 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংবিধান নিয়ে বিরোধীদের মোকাবিলায় আর এক তির নিয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বছর দেশে সংবিধান চালু হওয়ার পঁচাত্তর বছর। এই উপলক্ষ্যে কেন্দ্রের আইনমন্ত্রক একটি পোর্টাল চালু করছে। তাতে সাংবাধিক ও আইনি অধিকারের বিষয়ে বিশদ তথ্য মিলবে।
বিরোধীরা লাগাতার অভিযোগ করে আসছে নরেন্দ্র মোদীর জমানায় দেশে সংবিধান ও আইনের শাসন বিপন্ন। সংবিধান চালুর ৭৫ তম বর্ষ উপলক্ষে এলাবাবাদ তথা প্রয়াগরাজে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে প্রধান সরকারি অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়েরও উপস্থিত থাকার কথা।
সংসদে মোদীর শপথ গ্রহণের সময় তাঁকে সংবিধান তুলে ধরে দেখাচ্ছেন
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান অবমাননা, আইনের শাসনকে হত্যার অভিযোগ লোকসভা ভোটের পর বিরোধিরা আরও জোরালোভাবে তুলতে শুরু করেছে। জবাবে গত সপ্তাহে কেন্দ্র প্রতি বছর ২৫ জুনকে সংবিধান হত্যা দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৭৫ সালের ওই দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে নাগরিকের বহু অধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন।
কংগ্রেস বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার সংবিধানকে হত্যার অভিযোগের জবাবে কেন্দ্র জরুরি অবস্থাকে হাতিয়ার করেছে। লোকসভায় প্রথমে স্পিকার ওম বিড়লা, তারপর যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মু এবং সবশেষে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপির সব নেতা-মন্ত্রী সদলবলে জরুরি অবস্থার নিন্দায় শামিল হন। আগামী বছর ওই ঐতিহাসিক কালো পর্বের পঞ্চাশতম বর্ষ।
এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে আরও জব্দ করতেই এবার সংবিধানকেই পাল্টা হাতিয়ার করছে মোদী সরকার। আইনমন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লষ্ট পোর্টাল থেকে জন সাধারণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অধিকারের দিকগুলি সহজে জেনে নিতে পারবেন। সংবিধান ও আইন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই সরকারের লক্ষ্য।
বিজেপি অবশ্য প্রচার করছে, কংগ্রেস অতীতে সংবিধানের অধিকারগুলি কেড়ে নিয়েছিল। উল্টো পথে হেঁটে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার মানুষকে সেগুলি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে চাইছে। ফলে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইনকে উপেক্ষা করার অভিযোগ ধোপে টেকে না।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের বাকি দিনগুলি ‘সব কো ন্যায়, হর ঘর ন্যায়’, ‘নব ভারত সংকল্প’ এবং ‘বিধি জাগৃতি প্রচার অভিযান’ চালানো হবে দেশজুড়ে। উদ্দেশ্য, দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর আইনগুলি অন্তত মানুষকে জানানো। প্রসঙ্গত, ১ জুলাই ভারতে ফৈজদারি দণ্ডবিধির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। নয়া আইন কোনও কোনও ক্ষেত্রে কঠোর করা হয়েছে। ওই আইন নিয়েও প্রচার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।