শুধু নিল মোহন নন, ওই সময় টুইটার গুগলের আরেক উচ্চপদস্থ কর্তা সুন্দর পিচাইকেও তাদের দলে টানার চেষ্টা করেছিল।

নিল মোহন
শেষ আপডেট: 28 May 2025 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয়-আমেরিকান ব্যবসায়ী নিল মোহনের একসময় টুইটারে যোগ দেওয়া আটকাতে গুগল প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বেশি দিয়েছিল। প্রকাশ্যে এল বিস্ফোরক তথ্য। জেরোধা-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথের একটি পডকাস্টে সামনে এল পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাহিনি। সেই সময় নিল মোহন ছিলেন গুগলের বিজ্ঞাপন এবং ইউটিউবের অন্যতম মুখ্য পরিচালক।
পডকাস্ট চলাকালীন কামাথ বলেন, 'আমি একসময় পড়েছিলাম গুগল আপনাকে ১০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল চাকরি না ছাড়ার জন্য। সেটা আজ নয়, প্রায় ১৫ বছর আগের কথা, যখন এই অঙ্কটা ছিল বিশাল।' এই দাবি অস্বীকার করেননি নিল।
২০১১ সালে প্রকাশিত একটি টেকক্রাঞ্চ রিপোর্ট অনুযায়ী, গুগলের এই অফার ছিল স্টক ইউনিটের আকারে, যা সময়ের সঙ্গে ধাপে ধাপে প্রাপ্য হওয়ার কথা ছিল। সেই সময় টুইটারের বোর্ডে ছিলেন ডেভিড রোজেনব্লাট, যিনি আগে মোহনের বস ছিলেন। তিনিই তাঁকে টুইটারের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা শেষমেশ হয়নি।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিংয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর, নিলের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল অ্যান্ডারসন কনসালটিং (বর্তমানে অ্যাকসেঞ্চার)-এ। পরে তিনি নেট গ্র্যাভিটি নামে একটি স্টার্টআপে যোগ দেন, যা পরে ডাবলক্লিক দ্বারা অধিগৃহীত হয়। সেখান থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে প্রথমে হন ডাবলক্লিক-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরে, ২০০৭ সালে গুগল যখন ৩.১ বিলিয়ন ডলারে ডাবলক্লিক অধিগ্রহণ করে, তখন মোহন গুগলের বিজ্ঞাপন বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।
২০১১ সাল নাগাদ তিনি গুগলের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজির মূল দায়িত্ব পান। পাশাপাশি ইউটিউবের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ঠিক করা, তার কৌশল নিয়ে আলোচনায় নিলের প্রভাব বাড়তে থাকে। তাঁর গুরুত্ব বুঝে, আটকাতে গুগল ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়। যা পরবর্তী সময়ে তাদের পক্ষেই সুখকর হয়।
শুধু নিল মোহন নন, ওই সময় টুইটার গুগলের আরেক উচ্চপদস্থ কর্তা সুন্দর পিচাইকেও তাদের দলে টানার চেষ্টা করেছিল। তিনি তখন গুগলের ক্রোম ও ক্রোম ওএস বিভাগের প্রধান ছিলেন। গুগলও তাঁর জন্য পাল্টা প্রস্তাব হিসেবে ৫০ মিলিয়ন ডলারের স্টক গ্রান্ট দেয়।
বর্তমানে, এই দুই শীর্ষ কর্তার প্রযুক্তি দুনিয়ায় যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ২০২৩ সালে ইউটিউবের সিইও হিসেবে সুশান ওয়জসিকিকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আসেন নিল মোহন। অন্যদিকে, সুন্দর পিচাই ২০১৫ সালে গুগলের সিইও হন এবং ২০১৯ সালে আলফাবেট ইনকর্পোরেটেড-এর সিইও পদেও বসেন।