
নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 1 February 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্য চিনকে টক্কর দেওয়া। লক্ষ্য ভারতকে শীর্ষস্থানে তুলে আনা। আর সেই লক্ষ্যপূরণে এবার খেলনাকে পাখির চোখ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জানালেন, শুধুই দেশের চাহিদা পূরণ কিংবা ঘাটতি মেটানো নয়। সারা বিশ্বের সাপেক্ষে ভারতকে খেলনা উৎপাদন ও রফতানির নিরিখে এক নম্বরে টেনে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তাই আগামি দিনে ভারত যাতে খেলনা, পুতুল বিপণনে ‘গ্লোবাল হাব’ হয়ে উঠতে পারে, তার জন্য সরকারি তরফে নেওয়া হবে একগুচ্ছ প্রকল্প।
আজ বাজেট বিবৃতিতে নির্মলা বলেন, কেন্দ্রের নজর শুধুই খেলনা তৈরি নয়। তাকে হতে হবে উৎকৃষ্ট, অভিনব, টেকসই এবং অতি অবশ্যই পরিবেশবান্ধব। গুণগত মান ও চমৎকারিত্ব দুই-ই যেন খেলনার প্রক্রিয়াকরণে নজরে আসে। প্রতিফলিত হয় ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র বার্তা। আর এর জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলনা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে নেওয়া হবে উদ্যোগ। জারি হবে নির্দিষ্ট ‘ন্যাশনাল অ্যাকশান প্ল্যান’। নির্মলা জানান, নির্মাতারা যাতে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে খেলনা বানাতে পারেন, আন্তর্জাতিক আবেদনের পাশাপাশি দেশজ শৈলীকেও সৃষ্টির মধ্যে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, এর জন্য তাঁদের প্রশিক্ষিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের অর্থবর্ষ ও ২০২৩-এর অর্থবর্ষের মধ্যে ভারত থেকে বিদেশে খেলনা রফতানি ২৩৯ শতাংশ বেড়েছে, আমদানি কমেছে ৫২ শতাংশ। এর সুবাদে খেলনা বিপণনের সঙ্গে একাধিক ব্র্যান্ড, যেমন: হাসব্রো, স্পিন মাস্টার, মাটেল ভারতের দিকে বেশি করে ঝুঁকেছে। পাশাপাশি ড্রিম প্লাস্ট, ইনকাস, মাইক্রোপ্লাস্টের মতো খেলনা তৈরির একাধিক সংস্থাও চিনের থেকে মুখ ঘুরিয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে খেলনা, পুতুল সংক্রান্ত বাজারের তলে তলে একটি বড়সড় প্লেটবদল ঘটেছে। চিন থেকে অভিমুখ সরে গেছে ভারতের দিকে।
এর ছাপ পড়েছে পরিসংখ্যানেও। সব মিলিয়ে চিনের প্রতি ভারতের অবলম্বন কমেছে ৮০ শতাংশ। বাইরের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়তে দেখে ইতিমধ্যে কোমর বেঁধে নেমেছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্সও। তারা জানিয়েছে, কোনো চিনা খেলনাকে আগামি দিনে দেশের বাজারে বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার ফলে স্বাভাবিকভাবে আমদানির গ্রাফ হু হু করে নামতে থাকে। বাধ্য হয়ে দেশীয় সংস্থাগুলি বুকে বল পায়। গড়ে তোলে কারখানা। বাড়তে থাকে উৎপাদন। অন্যদিকে বিভিন্ন বৈদেশিক সংস্থাও ভারতে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তোলে।
এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় সাহায্যের আশ্বাস ও আগামি দিনের রোডম্যাপ দেশের খেলনা-বাণিজ্যকে আরও পুষ্টি জোগাবে। পাশাপাশি আরও কোণঠাসা হবে চিন। মত বিশেষজ্ঞদের।