
শেষ আপডেট: 26 October 2023 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলাতঙ্কে মৃত্যু হল বছর আটেকের মেয়ের। দিন পনেরো আগে কুকুর কামড়েছিল। কিন্তু অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিনই দেয়নি পরিবার। ফলে মারাত্মক সংক্রমণে আক্রান্ত হয় মেয়েটি। এই ঘটনা ঘটেছে আগ্রায়।
আগ্রার চাইল্ড মেডিক্যাল অফিসার ডা. একে শ্রীবাস্তব বলেছেন, রাস্তার কুকুর কামড়ে দিয়েছিল শিশুটিকে। মেয়েটি তার মাকে ছাড়া পরিবারের কাউকেই জানায়নি। তার মাও ভ্যাকসিন দিতে না নিয়ে গিয়ে বাড়িতেই নানা টোটকা দিয়ে ক্ষত সারানোর চেষ্টা করে। এর ফলও হয় মারাত্মক। মেয়েটির শরীরে বাসা বাঁধে রেবিস ভাইরাস।
শিশুটির অবস্থা যখন সঙ্কটাপন্ন হয়ে ওঠে তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।
কুকুর বা বিড়াল কামড়ালেই প্যানিক শুরু হয়ে যায়। আতঙ্ক এতটাই বেশি হয় যে কী করা উচিত তা মাথাতেই থাকে না। তার ওপর নানা জনে নানা নিদেন দেন। সেইসব পরামর্শ মানতে গিয়ে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক আতঙ্কের কারণ হলেও এর একমাত্র চিকিৎসা হল টিকা। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলেই জীবাণু সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে।
কুকুরের লালায় থাকা র্যাবিস লিসা ভাইরাস জলাতঙ্ক অসুখের কারণ। কুকুর-সহ অন্য কোনও প্রাণী যেমন বিড়াল, বাদুড়, গরু, ছাগল, ঘোড়া, শেয়াল, খরগোশ ইত্যাদি কামড়ে দিলে র্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণে জলাতঙ্ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন কুকুর কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটা রানিং ট্যাপ ওয়াটারে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এর পরে সাবান দিয়ে অবশ্যই আরও কিছু ক্ষণ ধুয়ে নিন জায়গাটা। যোগাযোগ করুন ডাক্তারকে। ভ্যাকসিনেশন খুব জরুরি এ ক্ষেত্রে। এই আঁচড়ের পরে যদি সঙ্গে সঙ্গে কলের জল না পান কিছু ঘণ্টা পরে হলেও অবশ্যই রানিং ট্যাপ ওয়াটারে জায়গাটা ধুতেই হবে। নইলে জার্মটা যাবে না। র্যাবিস ভাইরাস সাধারণত পশুদের স্যালাইভা বা থুতুর মধ্যে দিয়ে মানুষের শরীরে বেশি আসে, তবে কুকুর, বিড়াল বা বাঁদর আঁচড়ে দিলেও সেই ভাইরাস অ্যাটাক করতে পারে। আর এতে সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন নিতেই হবে।
এখন যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তাতে শেষ দু’টো ডোজ দিতে হয় না সাধারণ ক্ষেত্রে। তবে ক্যানসার, ডায়বেটিস, এইচআইভি-র মতো রোগ থাকলে তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই এঁদের ১৪ এবং ২৮ নম্বর ডোজটাও দিতেই হয়। একই ভাবে যাঁরা স্টেরয়েড নেন, তাঁদেরও পুরো ডোজ দেওয়া হয় এখনও। কারণ তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।