এলএসি-তে উত্তেজনা কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনার পথে হাঁটছে দিল্লি ও বেজিং।

রাজনাথ সিং (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 15 June 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০-তে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই প্রথমবার চিন সফরে যেতে পারেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। চলতি মাসের শেষ দিকে চিনের কিংডাও শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে চিনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজনাথকে।
যদি এই সফর হয়, তাহলে ২০২০-র গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম কোনও ভারতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রথম চিন সফরে যাবেন। একইসঙ্গে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর যৌথ টহল ও সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে, তার পরও এটাই হবে এদেশের প্রথম কোনও মন্ত্রীর চিন সফর।
প্রসঙ্গত, এলএসি-তে উত্তেজনা কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনার পথে হাঁটছে দিল্লি ও বেজিং। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং শেষবার চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাডমিরাল দং জুনের সঙ্গে দেখা করেন লাওসে অনুষ্ঠিত এডিএমএম-প্লাস (ADMM-Plus) সম্মেলনে। পূর্ব লাদাখ থেকে সেনা অপসারণে সম্মত হওয়ার পর সেটা ছিল দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
এদিকে এই সফরের জল্পনা এমন সময় সামনে এল, যখন দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। এর মধ্যে রয়েছে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর আলোচনা, দু’দেশের মধ্যে ফের বিমান যোগাযোগ শুরু করা, হাইড্রোলজিকাল তথ্যের বিনিময় আবার শুরু করা এবং ভিসা ও মানুষে-মানুষে আদানপ্রদান সহজ করার মতো বিষয়।
এসসিও-র সভাপতিত্ব এখন চিনের হাতে। দিল্লিতে সম্প্রতি ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে চিনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার সুন ওয়েইডংয়ের আলোচনার সময়ও ভারত চিনের সভাপতিত্বকে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, গালওয়ানের রক্তাক্ত অতীতের ছায়া সরিয়ে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনায় নজর রয়েছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের। সেই পথেই কি প্রথম কূটনৈতিক ধাপ হতে চলেছে রাজনাথ সিংহের সম্ভাব্য চিন সফর? এখন সেটার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।