.jpeg)
মনমোহন সিং।
শেষ আপডেট: 28 December 2024 07:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার বেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য> সূত্রের খবর, তাঁর পরিবার এবং কংগ্রেসের তরফে রাজঘাটে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আর্জিও জানান হয়েছিল। তবে কেন্দ্র তাতে রাজি না হওয়ায় নয়াদিল্লির নিগমবোধ ঘাটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, সকাল ৮টা থেকে মনমোহনের মরদেহ শায়িত রাখা হবে কংগ্রেসের সদর দফতরে। সেখানে কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় কংগ্রেসের সদর দফতর থেকে শুরু হবে শেষযাত্রা। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিগমবোধ ঘাটে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
গত বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর হাত ধরেই দেশে উদারনৈতিক অর্থনীতির সূচনা হয়েছিল।
তবে মনমোহন সিংয়ের শেষকৃত্য সম্পর্কিত এবং স্মৃতিসৌধ নির্মাণের বিষয়ে কেন্দ্র শুক্রবার রাত পর্যন্ত সরাসরি কিছু না জানানোয় কংগ্রেসের পাশাপাশি আকালি দলও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। অকালি দলের নেতা সুখবীর সিংহ বাদল বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। তিনি ভেবেই পাচ্ছেন না, এত বড় একজন রাষ্ট্রনেতার বিষয়ে এমন আচরণ কীভাবে করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
কংগ্রেসের স্মৃতিসৌধের আর্জি শোনার পর অবশ্য বিজেপির তরফে আগেই কটাক্ষ করা হয়েছিল। তাঁরা বলেছিল, এই সেই কংগ্রেস যারা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের মৃত্যুতে যথাযোগ্য সম্মান দেয়নি। এমনকী তাঁর জন্য কোনও স্থায়ী স্মৃতিসৌধও নির্মাণ করা হয়নি। তখন প্রধানমন্ত্রী পদেই ছিলেন খোদ মনমোহন সিং। এখন তাঁরাই একই রকম আবেদন করছেন। এরপরই অকালি দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার কংগ্রেসের আর্জিতে সাড়া দিচ্ছে না। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই আবেদন নিয়ে চিঠিও দিয়েছে তাঁরা। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও উত্তর আসেনি।
শুক্রবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানান। তারপরেই দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা ও কেসি বেণুগোপাল একই দাবি জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে।
প্রসঙ্গত, মনমোহনের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকারের জমানাতেই রাওয়ের স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়নি। ২০১৩ সালে স্থানাভাবে তা করা সম্ভব নয়, বলে জানিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। ইউপিএ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, একটি সাধারণ স্মৃতিসৌধের এলাকা গড়ে তোলা হবে। রাজঘাটের পাশে সেই জায়গাকে রাষ্ট্রীয় স্মৃতিস্থল নাম দেওয়া হবে। তাই সেবার অনেকে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কংগ্রেস প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাওকে মর্যাদা দেয়নি।