
মোদীর শপথ গ্রহণ নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
শেষ আপডেট: 8 June 2024 21:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ণাঢ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। কার্যত সাজো সাজো রব এখন দিল্লিতে। জোরকদমে প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ লগ্নে। আগামীকাল সন্ধ্যায় জওহরলাল নেহরুর পরে দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয় দফার জন্য শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। ইতিমধ্যেই তাতে কারা হাজির থাকবেন সেই নিয়ে আমন্ত্রিতদের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, প্রায় ৭০০০-এর বেশি অতিথিদের আগমন ঘটতে পারে। তালিকায় রয়েছেন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, বিদেশি রাষ্ট্রনায়ক থেকে নির্মাণকর্মী, সাফাইকর্মী বা প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরাও।
রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্যানেই শপথ নিতে চলেছেন মোদী। সঙ্গে শপথ নেবেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তৃতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হলেও এবারে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। যার ফলে শরিকদের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হবে তাদের। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিশানা করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরিই বলেছেন, এই সরকার বেশিদিন টিকবে না। এদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জেডি(ইউ), তেলুগু দেশম পার্টি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনার মত দলগুলি দরাদরি চালিয়েছে এতদিন। শেষ অবধি কারা শেষ তালিকায় থাকবেন, সেই নিয়েই এখন কৌতূহল রাজধানীতে।
ইতিমধ্যেই এই নিয়ে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকাকে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেছে দিল্লি পুলিশ। কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনের চারপাশে। দিল্লির আকাশকে নো-ফ্লাইং জোন ঘোষণা করা হয়েছে। আমন্ত্রিক বিদেশি গণ্যমান্যদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিঙ্ঘে, মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজু, সেশেলস দ্বীপপুঞ্জের উপরাষ্ট্রপতি আহমেদ আফিফ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবীণকুমার জুগনাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকুমার দহল ওরফে 'প্রচণ্ড', ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সাউথ ব্লকের দেওয়া এই তালিকা থেকেই পরিষ্কার, শুরু থেকেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পথে চলবে তৃতীয় মোদী সরকার। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের দাপাদাপিকে আটকাতে এখন থেকেই পাখির চোখ করেছে নয়াদিল্লি।
বস্তুত, মোদীর শপথ গ্রহণে বরাবরই প্রতিবেশীদের গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এসেছিলেন তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। মোদীও পরে ঝটিতি সফরে পাকিস্তানে নেমেছিলেন। ২০১৯ সালে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বিমস্টেককে। তবে এবারের বড় চমক, রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের নির্মাণকর্মী ও সাফাইকর্মীদের রাখা। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে কর্মরত রেলকর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মোদীর মন-কি-বাত অনুষ্ঠানের শ্রোতাদের মধ্যে থেকেও নির্বাচিত কয়েকজনকে ডাকা হবে। পাশাপাশি একাধিক পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণ বিজয়ী, অন্তত তিরিশ থেকে চল্লিশটি ধর্মীয় সংগঠনের প্রধান সন্ন্যাসী, রামমন্দিরের সঙ্গে জড়িত সাধুসন্ত ও চলচ্চিত্র ও ক্রীড়াজগতের একাধিক প্রথম সারির ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকতে চলেছেন অনুষ্ঠানে।