
বন্যা পরিস্থিতি দুই রাজ্যে
শেষ আপডেট: 2 September 2024 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এটা কি 'আসনা' প্রভাব? অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় গত দু'দিনে যা বৃষ্টি হয়েছে তার জেরে দুই রাজ্য মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এছাড়া ১০০-র বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যগুলিতে। ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের। ইতিমধ্যে একাধিকজন উদ্ধার করে সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এমনিতেই চিন্তায় রয়েছে আবহাওয়া দফতর। যদিও আশা করা হয়েছে তার প্রভাব রাজ্যগুলিতে বেশি পড়বে না। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে ভারী বৃষ্টি হওয়ার আভাস দেওয়াই হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে একাধিক রাজ্যে। বিগত কয়েকদিন ধরে অন্ধ্র-তেলেঙ্গানাও ভাসছে। তবে দুর্যোগ এখানেই শেষ নয়। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৫ তারিখ থেকে আরও বৃষ্টি বাড়তে পারে দুই রাজ্যে। এখনও পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশে মৃতের সংখ্যা ১২ জন। তেলেঙ্গানায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই মুহূর্তে দুই রাজ্যের বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে নতুন করে এনডিআরএফের আরও ২৬টি দল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষ এবং পুলিশের সঙ্গে মিলে তাঁরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে দুই রাজ্যের একাধিক গ্রাম এবং এলাকা জলের তলায়। বাড়ির ভিতর জল ঢুকে যাওয়া থেকে শুরু করে গাড়ি, দোকানপাট সব ডুবে গেছে। বহু মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যে দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ও রেবন্ত রেড্ডিকে ফোন করে গোটা পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের তরফে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
১০০-র ওপর ট্রেন বাতিলের পাশাপাশি বহু ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই দুর্যোগের কারণে। তা স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ট্রেন যাত্রীরাও সমস্যার মধ্যে পড়েছে। দুই রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে ছ’হাজারের বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন বলে খবর। কিন্তু বহু এলাকায় ট্রেন লাইন জলের তলায় চলে যাওয়ায় ট্রেন চালানোই দুষ্কর হয়ে গেছে। তাই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
আসলে আরব সাগরে যে সময়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে তা হওয়ার কথা না। গত ৪৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার আরব সাগরে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে। বর্ষাকালে আরব সাগরের তাপমাত্রা মূলত ২৬ ডিগ্রির নীচে থাকে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আদতে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরির খুব একটা সম্ভাবনা থাকে না। তাই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।