
শেষ আপডেট: 21 November 2023 11:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ১০ দিনের উদ্ধার অভিযানের পর অবশেষে যেন একটু হলেও আশার আলো! উত্তরাখণ্ডের টানেলে আটক ৪১ জন শ্রমিক কেমন আছেন, তা দেখার জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে সুড়ঙ্গের ভিতর প্রবেশ করানো হয়েছিল এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরা। সেই ক্যামেরাতেই বিপর্যয়ের পর প্রথমবার দেখা মিলল আটকা পড়া শ্রমিকদের।
শুক্রবার টানেলে ফাটল ধরার শব্দ শোনার পর বাধ্য হয়েই বন্ধ করে দিতে হয়েছিল উদ্ধারকাজ। কিন্তু ৩ দিন চেষ্টার পর সোমবার রাতেই একটি ৬ ইঞ্চি চওড়া পাইপ ঢোকানো গিয়েছিল সুড়ঙ্গের ভিতর। তার মধ্যে দিয়েই কাচের বোতলে করে পাঠানো হয়েছিল গরম খিচুড়ি, ডালিয়া, কলা, আপেল। সেই পাইপের মধ্যে দিয়েই ঢোকানো হয়েছিল এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরা এবং ওয়াকি টকি, রেডিও হেডসেট। সেই ক্যামেরাতেই দেখা গেছে শ্রমিকদের। তাঁদের মাথায় তখনও কাজের সময়ে পরার হলুদ শক্ত টুপি, গায়ে গিয়ার। ক্যামরা দেখেই হাত নেড়েছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, যথাসম্ভব ঠিকই থাকার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন এক্স হ্যান্ডেলে।
सिलक्यारा, उत्तरकाशी में निर्माणाधीन सुरंग के अंदर फँसे श्रमिकों से पहली बार एंडोस्कोपिक फ्लेक्सी कैमरे के माध्यम से बातचीत कर उनका कुशलक्षेम पूछा गया। सभी श्रमिक बंधु पूरी तरह सुरक्षित हैं। pic.twitter.com/vcr28EHx8g
— Pushkar Singh Dhami (@pushkardhami) November 21, 2023
খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের জন্য নতুন পাইপটিকে ‘লাইফলাইন পাইপ’ বলে উল্লেখ করেছেন উদ্ধারকারীরা। বর্তমানে শুধু খাবার দেওয়া শুরু হলেও বাইরে না বেরনো পর্যন্ত ওই পাইপ দিয়েই শ্রমিকদের মোবাইল ফোন এবং চার্জারের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসও পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্ধারকারীদের। আপাতত শ্রমিকদের সঙ্গে যাতে সবসময় যোগাযোগ রাখা যায়, তার জন্য সুড়ঙ্গের ভিতর একটি ওয়াকি-টকি পাঠানো হয়েছে।
আটকে পড়া শ্রমিকদের কী কী খাবার পাঠানো হবে, সেই বিষয়ে প্রথমে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। আসলে যাতে কোনওভাবে শ্রমিকদের পেটের সমস্যা না হয় সেই দিকে নজর রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো শ্রমিকদের জন্য খাবারের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা মেনেই একেক সময়ে একেক রকম খাবার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্নেল দীপক পাতিল।
গত ১২ নভেম্বর ভোরে উত্তরাখণ্ডের সিল্কিয়ারায় নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নেমেছিল। ভেঙে পড়া সেই টানেলে আটকে পড়েছিলেন ৪১ জন শ্রমিক। ইতিমধ্যে শুধু দেশি নয়, বিদেশি সংস্থাও হাত লাগিয়েছে তাঁদের উদ্ধার করার কাজে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে চলছে অক্সিজেন পাঠানো। ৯ দিন কেটে যাওয়ার পর গতকাল সোমবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারকাজে সমস্ত রকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।