
শেষ আপডেট: 5 February 2024 07:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুখ্যাত জঙ্গিদের ধরতে এবার প্রযুক্তির আশ্রয় নিচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। কোনও জায়গায় নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে কোন জঙ্গি গোষ্ঠী এর জন্য দায়ী বা কোন জঙ্গি সেই অপরাধ সংঘটিত করেছে, তা জানা যাবে কম্পিউটার অ্যালগোরিদম থেকেই। এর জন্য জঙ্গিদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংরক্ষণ করছে এনআইএ। বিভিন্ন দেশে নাশকতার পর জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা থেকে ডেটাবেস তৈরি হচ্ছে। আঙুলের ছাপই সন্ত্রাসবাদীদের ধরতে সাহায্য করবে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।
কোন জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান কে, কোন জঙ্গি সংগঠন কোথায় অপারেশন চালানোর পরিকল্পনা করছে তা জানতেই এই প্রযুক্তিতে কাজে লাগানো যাবে বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা বলছেন, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। তাদের হ্যান্ডলাররাও নানা দেশে ছড়িয়ে। সংগঠনের মদতেই তারা নানা জায়গায় নাশকতা চালাচ্ছে বা নাশকতার ছক কষছে। এইসব জঙ্গিদের ছবি, নাশকতার নানা ভিডিও, আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে সেইসব দেশ বা রাজ্য। সেই তথ্য একসাথে পাওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু কম্পিউটার অ্যালগোরিদমের সাহায্যে ফিঙ্গার প্রিন্টের ডেটাবেস তৈরি করতে পারলে তা এক ক্লিকেই পাওয়া সম্ভব। ভারতের যেকোনও জায়গায় জঙ্গি অপারেশনের পর এক ক্লিকেই বলে দেওয়া সম্ভব, সেই নাশকতায় জড়িত কারা।
এনআইএ জানাচ্ছে, আমেরিকার গ্লোবাল টেররিজম ডেটাবেসের ধাঁচে ন্যাশনাল টেররিজম ডেটা ফিউশন অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে বা দেশে সন্ত্রাসবাদের নানা ঘটনা, ভিডিও, জঙ্গিদের নাম, তাদের সংগঠনের নাম, হামলায় কোন সংগঠনের হ্যান্ডলার জড়িত, তাদের আঙুলের ছাপ প্রভৃতি সংরক্ষণ করা থাকছে। যে ডেটাবেস তৈরি হয়েছে এখনও অবধি, তাতে এক ক্লিকেই ২২ হাজার জঙ্গি ও তাদের সংগঠনের নাম সামনে চলে আসবে।
একশো বছর আগে এক ইংরেজ আধিকারিক উইলিয়াম হার্সেল এবং তাঁর দুই বাঙালি সহযোগী আজিজুল হক ও হেমচন্দ্র বসুর তত্ত্বাবধানে আজকের মহাকরণের একটি অংশে গবেষণা ও কর্মদ্যোগের যে সূচনা হয়েছিল, বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজ সমগ্র পৃথিবীতে তা ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট’ পরীক্ষা বলে স্বীকৃত ও পরিচিত। সারাবিশ্বের অপরাধ বিজ্ঞান, শনাক্তকরণ, দলিলপত্র পরীক্ষা ও পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ভূমিকা আজ অপরিহার্য। ১৮৭৮ সালের ১২ জানুয়ারি সরকারি ভাবে বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম ভারতে বাংলার ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ ফিঙ্গার প্রিন্টের মুখ্য কার্যালয় হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুমোদন পেয়েছিল।