
শেষ আপডেট: 4 November 2023 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ৩০ নভেম্বর তেলেঙ্গানায় বিধানসভা নির্বাচন। সে রাজ্যে চলছে সমস্ত দলের নির্বাচনী প্রচার। আর তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও-এর দলকে নিশানা করতে গিয়ে এবার বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি নেতা। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও এবং তাঁর ছেলে কে টি রামা রাও মারা গেলে বিজেপি আর্থিক সাহায্য দেবে, সম্প্রতি এই মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা তথা নিজামবাদের সাংসদ অরবিন্দ ধর্মপুরী। যা ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
মঙ্গলবার, একটি নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ওই মন্তব্য করেন অরবিন্দ ধর্মপুরী। তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিআরএস-এর ইস্তাহারের সমালোচনা করেন এই বিজেপি নেতা। তিনি ভারত রাষ্ট্র সমিতির প্রধান কে চন্দ্রশেখর রাওকে কটাক্ষ করতে গিয়েই তাঁর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, "কেসিআর মারা গেলে বিজেপি আমজনতাকে ৫ লাখ টাকা দেবে। যদি কে টিআর অর্থাৎ কেসিআরের ছেলে মারা যান তাহলে সেই অর্থই দ্বিগুণ বেড়ে হবে ১০ লাখ।"
এখানেই শেষ নয়, বিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য ছিল, যদি কমবয়সি কারও মৃত্যু হয় তাহলে আর্থিক সাহয্যের মূল্য বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে কেসিআর কন্যা কবিতার মৃত্যু হলে বিজেপি ২০ লাখ টাকা দেবে বলেও জানান ধর্মপুরী। আসলে ভারতীয় রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)-এর নির্বাচনী ইস্তাহারে কেসিআর বিমা প্রকল্পের অধীনে মৃত কৃষকদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা জীবন বিমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ওই সাংসদের দাবি, বিআরএসের ইস্তাহারে মৃত কৃষকের বয়স ৫৬ বছরের কম হলেই পরিবারগুলিকে বিমা দেওয়া হবে বলা হয়েছে। আর বিজেপি ক্ষমতায় এলে সে রাজ্যের বাসিন্দাদের যে আরও সুবিধা মিলবে এমনটাই বোঝাতে চান তিনি। তীর্যকভাবে নিশানা করেন কেসিআর-সহ তাঁর পরিবারকে।
পালটা আক্রমণ করেন কবিতাও। কেসিআরের মেয়ে কে কবিতা বলেন, 'অরবিন্দ ধর্মপুরী আমার বিরুদ্ধে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেই একই মন্তব্য যদি তাঁর মেয়েদের সম্পর্কে করা হয় তবে তিনি কি চুপ থাকবেন? আমি রাজনীতিতে আছি এবং আমি কেসিআরের মেয়ে। তাই বলে এভাবেই কি কথা বলা যায়?' তাঁর মতে, কারও মৃত্যু কামনা না করে সবারই উচিত কী ধরনের কথা বলা হবে তা নিয়ে সচেতন থাকা। অরবিন্দ ধর্মপুরী যে ‘অসংসদীয় ভাষা’ ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে তেলেঙ্গানার মানুষদের চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মত কেসিআরের মেয়ের।