বিমানবন্দরে মেয়ের জন্য স্যানিটারি প্যাড চেয়ে অসহায় এক বাবার আর্তি, কেউ সাহায্য করল না। ইন্ডিগোর পরিষেবা বিপর্যয়ের মধ্যে ভাইরাল হল ভিডিও, ক্ষোভে ফুঁসছেন নেটিজেনরা।

ইন্ডিগোয় বিশৃঙ্খলা হওয়ার সময়
শেষ আপডেট: 5 December 2025 22:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে টানা চার দিন ধরে চলা ইন্ডিগোর (IndiGo Disruption) পরিষেবা ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি শুক্রবার আরও প্রকট রূপ নিল। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-সহ দেশের একাধিক বড় বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়লেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিলে (Flight Delay), হঠাৎ বাতিল (Flight Cancellation), হারিয়ে যাওয়া লাগেজ (Misplaced Baggage) এবং রিবুকিংয়ে অনিশ্চয়তা, সর্বত্র একটাই চিত্র, অব্যবস্থার অভিযোগ।
বেশিরভাগ যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্টাফরা স্পষ্ট করে কোনও তথ্য দিচ্ছেন না। টার্মিনালের চেক–ইন কাউন্টার (Check-in Counter) এবং হেল্পডেস্কে (Helpdesk) লম্বা লাইন, কোথায় যেতে হবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না যাত্রীরা। দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিমানবন্দরগুলিতে (Airport Congestion) তীব্র ভিড়ের ছবি দেখা গিয়েছে। এসবের মাঝেই উঠে এল এক করুণ চিত্র। যা ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বিমানবন্দরের লাউঞ্জে দাঁড়িয়ে সাহায্য চাইছেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট, মেয়ের পিরিয়ড হয়ে গেছে, স্যানিটারি ন্যাপকিন চাই, ব্লিডিং হচ্ছে।
More than 550 IndiGo flights were cancelled today. Thousands of people are stuck in transit, a father was seen pleading for a sanitary pad for his daughter
Do we even have an aviation ministry? What is the minister doing? 🤡 pic.twitter.com/h5NxMoFeC9— Veena Jain (@Vtxt21) December 5, 2025
ভিডিওটি অনলাইনে ছড়াতেই বহু নেটিজেন ক্ষোভ উগড়ে দেন। প্রশ্ন ওঠে, এমন বিপর্যয়ের সময়ে যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম জরুরি ব্যবস্থা (Emergency Support) কী রাখা হয়েছিল, কেনই বা কেউ এই মানুষটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন না?
এক ব্যবহারকারী লেখেন, “ভাবুন, তিনি কতটা অসহায় ছিলেন… খারাপ লাগছে যে আশেপাশে কেউ সাহায্য করল না।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “দুনিয়ার সব এয়ারলাইনে সমস্যা হয়। কিন্তু এমন সময়ে আমরা যদি মানুষ হিসেবে পাশে না দাঁড়াই, তবে সেটা আমাদেরই ব্যর্থতা।”
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় এক যাত্রী ক্ষোভে চিৎকার করছেন। “এখানে আসুন না, উত্তর দিন আমাদের!” তিনি দাবি করেন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কেউ কোনও আপডেট (Flight Update) দিচ্ছেন না ফ্লাইটের, ঠিক কী হতে চলেছে, কতক্ষণ দাঁড়াতে হবে কেউ জানে না, এভাবে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
যদিও বহু যাত্রীই জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামনের সারির স্টাফ (Ground Staff) সমস্যার প্রকৃত কারণ জানেন না, এঁরাই যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন। অব্যবস্থা অন্য জায়গায়।
এতকিছুর পর এদিন দুপুরে ইন্ডিগো বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং যাত্রীদের সাহায্য করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, বাস্তবে এর কোনও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় রাত পর্যন্ত ভিড় কমেনি, কেউ কেউ জানান তাঁদের লাগেজ ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ইন্ডিগোর দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য ইমেজ এই ঘটনায় বড় ধাক্কা খেল বলেই মত দিচ্ছেন যাত্রীরা। শুক্রবারের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করল, দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনেও ব্যাপক অপারেশনাল ত্রুটি (Operational Breakdown) ঘটতে পারে এবং সেই সময় যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর সিস্টেম কতটা দুর্বল, তা স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।