
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ
শেষ আপডেট: 6 May 2024 10:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে উদ্ধার করে ভারতের অংশ করে নেওয়ার কথা হামেশাই বলে থাকেন বিজেপি নেতারা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাক জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করে নাম উহ্য রেখে পড়শি দেশকে ‘ঘরে ঢুকে মারব’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ফের বলেছেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারত কব্জা করবেই।
তাঁর সেই কথার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে তাঁর পরামর্শ, মনে রাখবেন, ‘পাকিস্তান চুড়ি পরে বসে নেই। ওদের হাতেও পরমাণু বোমা আছে।’
তাৎপর্যপূর্ণ হল অতীতে ভারতের নির্বাচনে পাকিস্তানি রাজনীতিক বিশেষ করে ক্ষমতাসীন নেতারা হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। কাশ্মীর নিয়েই সরব হয়েছেন বেশিরভাগ নেতা। এবার এখনও পর্যন্ত তেমন জোরালো আক্রমণ শোনা যায়নি। বরং ইসলামাবাদের জোট রকারের প্রধান শরিক পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর প্রধান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, তাঁর কন্যা সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ভারতের সঙ্গে সৌভাতৃত্বের বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের বণিক মহল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ নওয়াজকে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে বরাবরের মতো এবারও পাকিস্তান এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নাম করে পাকিস্তানকে জড়িয়ে তাঁর সম্পর্কে টিপ্পনী করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, পাকিস্তান কংগ্রেসের শাহাজাদাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়।
রাজনাথ কাশ্মীর প্রসঙ্গ এনেছেন একটি সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি ফের বলেছেন, পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরকে ফেরানো হবেই। সেই সঙ্গে বলেছেন, এজন্য ভারত কোনও বলপ্রয়োগ করবে না। কিন্তু যুদ্ধ বিনা কী করে পুনর্দখল সম্ভব তা স্পষ্ট করেননি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। বিজেপির এক প্রবীণ নেতা অবশ্য বলেন, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ, সংবিধানের ৩৭০ নন্বর অনুচ্ছেদ বাতিল এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পাশাপাশি পাকিস্তানের কব্জায় থাকা কাশ্মীর ছিনিয়ে নেওয়াও বিজেপির গোড়াকার সংকল্প ও ঘোষণা। নির্বাচনের সময় পার্টি গোড়াকার ঘোষণাগুলি প্রচারে তুলে ধরে কর্মী-সমর্থকদের তা স্মরণ করিয়ে দিতে।
ফারুকের কড়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, যুদ্ধ, হানাহানির আগে তাঁরা বিধানসভা ভোট চান। ফারুক আশাবাদী অমরনাথ যাত্রা শেষ হওয়ার পর দুই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভার ভোট হবে। তাঁর দাবি, ৩৭০ বাতিলের পরও উপত্যকায় উগ্রপন্থার কোনও বিরাম নেই। জঙ্গিরা বেশ তৎপর। উল্টো দাবি ভারত সরকারের।