
শেষ আপডেট: 29 November 2023 10:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন যত গড়াচ্ছিল ততই বাড়ছিল উদ্বেগ। বারে বারে মনে হচ্ছিল, এই বুঝি আসবে সুখবর। কেউ দুশ্চিন্তায় পায়চারি করছিলেন ঘরেই, আবার কারোর চোখ ছিল টিভির পর্দায়। ১৭ দিন ধরে এভাবেই যে চিন্তার দুচোখ এক করতে পারেননি তাঁরা। অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিলল স্বস্তির নি:শ্বাস। উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে মুক্তি পেলেন ৪১ জন শ্রমিক। খুশির জোয়ারে ভাসল তাঁদের পরিবার। গ্রামের ছেলের ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের মেজাজ দেখা গেল ঝাড়খণ্ডের খিরাবেদা গ্রামে।
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির কাছেই খিরাবেদা গ্রাম। সেখানকার বাসিন্দা রাজেন্দ্র বেদিয়া, সুখরাম এবং অনিল আটকে পড়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে। ১৭ দিন বাদে প্রিয়জনেদের ফিরে পেয়েছেন তাঁদের পরিবার।
দিনরাত শুধুই ছেলের জন্য প্রার্থনা করে গেছেন শ্রবণ বেদিয়া। ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসড। নিজের ছোট্ট কুঁড়েঘরের বাইরে হুউলচেয়ারে বসে ছেলেকে ফিরে পেতে দিন গুনছিলেন তিনি। আর অবশেষে তাঁর মুক্তির খবর পেতেই তিনি বলেন, “শেষমেশ, ভগবান আমাদের কথা শুনল।”
#WATCH | Mandi, Himachal Pradesh: Urmila, mother of Vishal, one of the workers who were rescued from Silkyara tunnel says, " I am very happy with the govts of Uttarakhand and Himachal Pradesh, I thank them from the bottom of my heart..." pic.twitter.com/VMqVPg5vVJ
— ANI (@ANI) November 28, 2023
ভাইয়ের জন্য টানেলের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন অনিলের ভাই সুশীল। ফোনে তিনিই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খুশির খবর দেন। বলেন, “ভাইকে উদ্ধার করা গিয়েছে। আমি ওর সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে যাচ্ছি।” অনিল শারীরিকভাবে সুস্থ আছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। যদিও এই ১৭ দিন যে কীভাবে কেটেছে তা বর্ণনা করতেই শিউরে ওঠেন সুনীল। বাড়িতে ছিলেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা। সাংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমার জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি। আমি এখানেই ছিলাম। বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার কেউই ছিল না। আমি কোনওভাবে উত্তরকাশী যাওয়ার টাকা জোগাড় করেছিলাম।”প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাঁড়ি চড়েনি অনিলের বাড়িতে। প্রতিবেশীদের দেওয়া খাবারেই কোনও রকমে পেট ভরাতেন অনিলের বাবা-মা। প্রতিবেশীরাই তাঁদের কাছে প্রথম সুখবর পৌঁছে দেন।
#WATCH | Mandi, Himachal Pradesh: Family members of Vishal, one of the workers who was rescued from the Uttarkashi tunnel, celebrate pic.twitter.com/FOaGK1yhLB
— ANI (@ANI) November 28, 2023
অন্যদিকে, সুখরামের মা পার্বতী ছেলের বিপদের কথা শোনার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসড হয়ে তিনিও শয্যাসায়ী। ছেলের ফেরার পাওয়ার পর থেকেই খুশি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। খুশিতে চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি সুখরামের দিদি খুশবুও।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা রাম কুমার বেদিয়া জানিয়েছেন, ওই গ্রামের ১৩ থেকে ২৩ বছর বয়সী কয়েকজন যুবক গত ১ নভেম্বর উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গের কাজে যান। সেখানেই তাঁরা সিল্কিয়ারা টানেলে ধসে আটকে পড়েন। শুধু শ্রমিকদের পরিবারই নয়, গ্রামের ছেলেদের উদ্ধার হওয়ার খবরে আনন্দে আত্মহারা গ্রামবাসীরাও। শ্রমিকদের পরিবার গ্রামে লাড্ডু বিতরণ করেন। মঙ্গলবার রাতে অকাল দিপাবলিতে মেতে ওঠেন সকলে।