
অতুল সুভাষ
শেষ আপডেট: 11 December 2024 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ করে ২৪ পাতার নোট লিখে আত্মঘাতী হয়েছেন বেঙ্গালুরুর এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এই ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে দেশে। ইতিমধ্যে ওই যুবকের স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। যুবকের ভাই আবার বড় অভিযোগ তুলেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে।
অতুল সুভাষ উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। বেঙ্গালুরুতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আত্মহত্যা করার আগে ২৪ পাতার নোট লিখে গেছেন। তাতে তিনি স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ভূরিভূরি অভিযোগ করেছেন। দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি ভুয়ো মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পাশাপাশি ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ বছর ধরে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এমনকী ৪ বছরের ছেলেকে হাতিয়ার করে তাঁর থেকে টাকাও নিচ্ছিলেন স্ত্রী!
অতুল এবং নিকিতা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকতেন না। সুইসাইড নোটে অতুল অভিযোগ করে গেছেন, আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরপর ভুয়ো মামলা করতে থাকেন নিকিতা। তাঁর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও জড়িত ছিল। ২০১৯ সালে অতুলের শ্বশুর প্রয়াত হন। সেই ঘটনায় অতুলের বিরুদ্ধেই খুনের মামলা দায়ের করেছিলেন নিকিতা! সুইসাইড নোটে অতুল দাবি করেছেন, ১০ লক্ষ টাকা পণ চাওয়ার জন্য তাঁর বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন নিকিতা। এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যে ছিল। পরে নাকি নিকিতা সত্যি স্বীকারও করে। কিন্তু ততদিন যা মানসিক অত্যাচার হওয়ার হয়ে গেছে।
এখানেই শেষ নয়। অতুল এও জানিয়ে গেছেন, নিকিতা তাঁর ছেলের নাম করে মাসে তাঁর থেকে ২ লক্ষ টাকা করে নিত। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো গার্হস্থ্য হিংসার মামলাও রুজু করেছিল। যা পরে তুলে নেয়। উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের আদালতে এখনও নাকি এই সংক্রান্ত মামলা চলছে। সেই মামলা চলাকালীন নিকিতা অতুলকে আত্মহত্যা করার 'পরামর্শ' দিয়েছিলেন বলেও অতুলের সুইসাইড নোটে দাবি করা হয়েছে।
অতুল এও অভিযোগ করেছেন, প্রথমে মাসিক ১ কোটি টাকা করে দাবি করেছিল নিকিতা। তারপর ৩ কোটি টাকা করে দাবি করা হয়েছিল। ২০২০ সাল থেকে টাকা দিতে তাঁকে নিকিতার বাড়ির লোকও বাধ্য করতে বলে দাবি করেছে অতুল। নিজের সুইসাইড নোটে অতুল এও উল্লেখ করেছে যে, ভারতে এইভাবে বহু পুরুষ মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। কিন্তু কেউ এই ঘটনাগুলি নিয়ে পরোয়া করে না। পণ প্রথা এবং অন্যান্য একাধিক বিষয়ের ফায়দা তুলে পুরুষদের জীবন অতিষ্ট করে তুলছেন নিকিতার মতো মহিলারা।
অতুলের ভাই বিকাশ কুমার আবার দাবি করেছেন, অতুলের বিরুদ্ধে যে ৯টি ভুয়ো মামলা দায়ের করেছিল নিকিতার পরিবার সেই মামলা তুলে নিতে ৩ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল! নিকিতা ছাড়াও তাঁর মা, ভাই এবং কাকাও অতুলের আত্মহত্যার কারণ বলে দাবি করেছেন বিকাশ। তাঁর বক্তব্য, এটা আত্মহত্যা নয়, খুন। বিকাশ এও জানিয়েছেন, জৌনপুরে যে মামলা করা হয়েছিল তার জন্য অতুলকে কয়েক মাসে অন্তত ৪০ বার বেঙ্গালুরু-জৌনপুর যাতায়াত করতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে হতাশার চরম সীমায় চলে গেছিল অতুল বলে জানিয়েছেন বিকাশ।
অতুলের ঘর থেকে যে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে তাতে বারবার 'ন্যায় বাকি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু এই নোট লেখাই নয়, অতুল একটি ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন। যেখানে তিনি ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্নও তোলেন। বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস হারাচ্ছেন বিচারব্যবস্থার প্রতি। 'ভারতে আইনি পথে পুরুষদের হত্যা করা হচ্ছে' বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এলন মাস্ককে সেই ভিডিওতে ট্যাগ করেছিলেন অতুল।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিকিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পণ চাওয়া, খুন, হেনস্থা, অপ্রাকৃতিক যৌনতা সহ নানা অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।