
শেষ আপডেট: 4 November 2023 12:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস। ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল নেপাল। মুহূর্তে তছনছ হয়ে যায় এভারেস্টের পাদদেশ। সাত বছর হয়ে গেলেও এখনও সেই স্মৃতি দগদগে রয়েছে সে দেশের বাসিন্দাদের কাছে। সেই আতঙ্ক ফের ফিরল শুক্রবার রাতে। রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রায় এদিন কেঁপে ওঠে নেপাল। যার প্রভাব পড়ে দিল্লি সহ গোটা উত্তর ভারতে। তবে এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে যে কোনও মুহূর্তে আরও ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে। এমনই আশঙ্কাবাণী শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে দেশবাসীকে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপাল এই মুহূর্তে একটি সক্রিয় শক্তি নির্গমণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আর তার জেরেই এই ঘন ঘন ভূমিকম্প। এমনটাই জানিয়েছেন ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজির প্রাক্তন অধ্যাপক এবং ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অজয় পাল।
শুক্রবার গভীর রাতে যে কম্পন অনুভূত হয়েছে, নেপালের দোতি জেলার কাছে তার উৎসস্থল। গত ৩ অক্টোবর ওই একই এলাকায় পরপর বেশ কয়েকবার কম্পন অনুভূত হয়েছিল। ওই অঞ্চলটি নেপালের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত। আর হিমালয় ঘেঁষা নেপালের ওই মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষকে আরও ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন অজয় পাল।
তবে শুধু একজন নয়, একাধিক বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয়ের নিকটবর্তী ভূখণ্ডে যে কোনও সময় ভয়াবহ কম্পন হতে পারে। যার নেপথ্যে রয়েছে ওই অংশে ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেট ও ইউরাশিয়ান প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা। আসলে ৪ থেকে ৫ কোটি বছর আগে যখন ভারত মহাসাগর থেকে ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর দিকে যাচ্ছিল সেই সময়ই ইউরাশিয়ান প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উৎপত্তি হয়েছিল হিমালয় পর্বতমালার। আর এই ইন্ডিয়ান প্লেট ফের উত্তরের দিকে যেতে শুরু করেছে। ফলে একটি চাপ তৈরি হচ্ছে। কোনও বড় ভূমিকম্পে চাপ মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঠিক কবে সেই কম্পন অনুভূত হতে পারে, তা বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।