প্রধান বিচারপতি থাকাকালে বারে বারেই নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, স্বাধিকারের পক্ষেই সওয়াল করেছেন চন্দ্রচূড়।

শেষ আপডেট: 27 June 2025 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দেশ-এক ভোট (One nation one election) ব্যবস্থা চান ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (ex CJI DY Chandrachud) । সংসদীয় কমিটির (Parliamentary committee) কাছে হাজির হয়ে তিনি প্রস্তাবিত ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিরোধীদের তোলা যাবতীয় অভিমত, আশঙ্কা নসাৎ করেছেন। এমনকী নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) অবাধ স্বাধীনতার বিপক্ষে মত দিয়েছেন এই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি থাকাকালে বারে বারেই নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, স্বাধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন চন্দ্রচূড়। এমনকী তাঁর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্বাচন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে রায় দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত এই নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল। নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে আইন করে শীর্ষ আদালতের সেই রায় নস্যাৎ করে দিয়েছে।
সেই সাবেক প্রধান বিচারপতিই এখন নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি বলেছেন, কোনও রাজ্যে ভোট স্থগিত রাখার ক্ষমতা কমিশনের হাতে থাকা উচিত নয়। এই ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকা দরকার।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলে ভোটের দিনক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনই শেষ কথা। এখানে সরকারের ভূমিকা হল কমিশনের সুপারিশ মতো পদক্ষেপ করা। সেই মামলাটি ছিল গুজরাতের। গুজরাত দাঙ্গার পর সেই রাজ্যে অবাধ ভোটের পরিবেশ নেই জানিয়ে বিধানসভার ভোট স্থগিত করে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জেএম লিংদো। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা করে হারতে হয় রাজ্যের তৎকালীন নরেন্দ্র মোদী সরকারকে।
এক দেশ এক ভোট সংক্রান্ত বিলটি নিয়ে নানাজনের মত নিচ্ছে বিজেপির সাংসদ বিবি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি। কমিটি প্রাক্তন বিচারপতি, সাংসদ, মন্ত্রী, শিক্ষাজগতের বিশিষ্টদের ডাকছে।
এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থা নিয়ে সবচেয়ে আপত্তির জায়গা হল এরফলে স্থানীয় ইস্যুগুলি ভোটের প্রচারে গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে। চন্দ্রচূড়ের বক্তব্য, কোনও ভোটার যদি আঞ্চলিক ইস্যুগুলিকে জাতীয় ইস্যু করে তুলতে চান তাহলে এক দেশ এক ভোট সবচেয়ে উপযোগী ব্যবস্থা। তাঁর কথায়, এরফলে ভোটের জন্য খরচ সব মহলেরই কমবে। আঞ্চলিক দলগুলি নয়া ব্যবস্থায় বিপাকে পড়তে পারে, এমন বক্তব্যে সায় নেই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের। তাঁর কথায়, আঞ্চলিক দলগুলি তো চায় তাদের ইস্যুগুলি জাতীয় পর্যায়ে উত্থাপিত হোক। এতে সংযুক্ত ভোট বাধা হবে না। তাঁর কথায়, ভোটাররা সচেতন। তারা উপযুক্ত কারণে উপযুক্ত ভোটারদের বেছে নেবেন।