
শেষ আপডেট: 27 April 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপস্থিত বুদ্ধির জোরে পহেলগামে বেঁচে যান কর্নাটকের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়র। সঙ্গে প্রাণ রক্ষা করেন প্রায় ৪০ জনের। কীভাবে? সেকথাই সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি শেয়ার করলেন তিনি। হাড়হিম করা ঘটনার কথা বিশ্লেষণ করলেন পুঙ্খানুপুঙ্খ।
আর পাঁচটা পর্যটকের মতো প্রসন্ন কুমার ভাটও তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভূস্বর্গে ঘুরতে গেছিলেন। পহেলগামের সৌন্দর্য উপভোগ শেষে ঘোড়ায় করে যান 'মিনি সুইৎজারল্যান্ড' অর্থাৎ বৈসরনে। প্রকৃতির অপূর্ব রূপ দেখতে দেখতে কানে আসে গুলির শব্দ। ততক্ষণে ওখানে উপস্থিত সকলকে প্রায় ঘিরে ফেলেছে জঙ্গিরা। গুলির শব্দ শুনে বেরোনোর জন্য গেটের দিকে পালাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক, পালাচ্ছিলেনও সকলে। কিন্তু গুলি মারার জন্য সেখানেই ওঁত পেতে বসেছিল জঙ্গিরা। বুদ্ধি খাটিয়ে সকলের দেখানো পথে হাঁটেননি প্রসন্ন ও তাঁর পরিবার।
ভারতীয় সেনায় কর্মরত তাঁর ভাইয়ের পরামর্শ শুনে বিকল্প পথ খোঁজেন। সেই পথে হেঁটেই প্রাণ বাঁচে তাঁদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসন্ন কুমার ভাট লেখেন, 'আমরা ওই বিভীষিকা থেকে বেঁচে ফিরেছি, গুলির শব্দ এখনও কানে বাজছে। ঘুম উড়েছে প্রায় সকলের।'
জানান, ২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রথমে দু'টি গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে তাঁরা দু'টি নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রসন্নর ভাই বুঝে যান এটা জঙ্গি হামলা। এরপরই শুরু হয় চিৎকার, আর্তনাদ, কান্না আর ছুটোছুটি।
বলেন, 'আমরা দেখতে পেলাম এক জঙ্গি আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে, তাই উল্টো দিকে দৌড়তে শুরু করি। সৌভাগ্যক্রমে, একটা ফাঁকা রাস্তা খুঁজে পেয়ে সেদিকে পালিয়ে যাই। কাদা-মাটির কারণে দৌড়ানো কঠিন হলেও, সবাই প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটছিলেন।
প্রসন্নরাও তাই করেন। তাঁর কথায়, ভাইয়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জঙ্গিদের নজরের আড়ালে চলে যান তাঁদের নিয়ে। আরও অনেকে তা দেখে ওই পথে ছুটে যান। আশ্রয় নেন একটি গাছের নীচে গর্তে। প্রাণ বাঁচে ৩৫ থেকে ৪০ জনের। এরপর প্রায় ৩টে ৪০ নাগাদ হেলিকপ্টারের শব্দ পেয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন নিরাপত্তা বাহিনী এসে পৌঁছেছে। বিকেল ৪টার মধ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।
পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও ওইদিনের কথা ভুলতে পারছেন না তাঁরা। এখন তাঁদের একটাই আশা, কেউ যেন আর কখনও এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হন।
পোস্টের একদম শেষে নিজের ভাই এবং ভারতীয় সেনার সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান যুবক। নিরাপদে কর্নাটকে ফিরে গেছেন বলে জানা যায়।