
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 20 April 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরর টেকি অতুল সুভাষের ছায়া লখনউয়ে। স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করলেন ৩৩ বছর বয়সি এক যুবক। মৃত ব্যক্তির নাম মোহিত যাদব। মৃত্যুর আগে তিনি একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। সেখানে তিনি অভিযোগের সুরে জানান, তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এরই সঙ্গে মিথ্যে মামলার ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতনও করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, 'আমার মৃত্যুর পর যদি বিচার না হয়, তাহলে আমার ছাই নালায় ফেলে দিও।'
ইটাওয়াহ রেলস্টেশনের বাইরের জলি হোটেলে বৃহস্পতিবার মোহিত যাদব চেক-ইন করেন। শুক্রবার সকালে তিনি ঘর থেকে বের হননি। এরপর সন্ধ্যায় হোটেল কর্মীরা ঘরের দরজা খুলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনার কথা জানান ইটাওয়াহর পুলিশ সুপার (সিটি) অভয় নাথ ত্রিপাঠী।
অরাইয়া জেলার বাসিন্দা মোহিত একটি সিমেন্ট কোম্পানিতে ফিল্ড ইঞ্জিনিয়র হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাত বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৩ সালে তাঁর বিয়ে হয় প্রিয়া যাদবের সঙ্গে।
ভিডিও বার্তায় মোহিত অভিযোগ করেন, প্রিয়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিহারে একটি প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পান। কিন্তু তাঁর মা গর্ভপাত করিয়ে দেন। মোহিতের দাবি, তাঁর শাশুড়ি প্রিয়ার সমস্ত গয়না নিজের কাছে রেখে দেন। বিয়ের সময় কোনও রকম পণ দাবি করা হয়নি, তবুও তাঁর স্ত্রী ও ওই পরিবার তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।
ভিডিওতে বলেন, 'স্ত্রী আমাকে বলেছিল, যদি বাড়ি ও সম্পত্তি ওর নামে না করি, তাহলে মামলা করবে। পণ নিয়েছি বলে মিথ্যা মামলা করবে। ওর বাবা মনোজ কুমার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন ইতিমধ্যেই। ওর ভাই আমাকে খুনের হুমকি দিয়েছেন।'
অভিযোগ, এরপর থেকেই প্রতিদিন স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছিল এবং স্ত্রীর পরিবার সবসময় তাঁর বিরোধিতা করত।
ভিডিওর শেষে মোহিত তাঁর মা-বাবার কাছে ক্ষমা চান এবং বলেন, 'আমার মৃত্যুর পরও যদি ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে আমার ছাই নালায় ফেলে দিও। এই ভিডিও যখন দেখবে, আমি তখন আর থাকব না। যদি পুরুষদের জন্য কোনও সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন থাকত, তাহলে আমি এই সিদ্ধান্ত নিতাম না। আমি স্ত্রীর ও তাঁর পরিবারের হেনস্থা সহ্য করতে পারছি না আর।'
মোহিতের ভাই তরুণ প্রতাপ জানিয়েছেন, তিনি কোটার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু মাঝপথে ইটাওয়াহতে দাঁড়িয়ে পড়েন। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা মোহিতের ভিডিও মোবাইলে পান এবং তখনই ঘটনাটি জানতে পারেন। এখনও পর্যন্ত প্রিয়া যাদব বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
শুক্রবারও এভাবেই একজন স্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে আত্মঘাতী হন। স্ত্রী ও তাঁর বাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অতুল সুভাষের ঘটনা সামনে আসার পর থেকে একের পর এক এমন ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত প্রশানসন ও মনোবিদরা। তাঁদের সকলের দাবি, সমস্যা হতে পারে, সমাধান নিশ্চয়ই আছে। সেই সমাধান নিজে না বের করতে পারলে কারও সাহায্য নিতে হবে। এভাবে জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমাধান হতে পারে না।
অনেকে পুরুষদের সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট আইনের দাবিও তুলেছেন।