নেল রিমুভার আর চিনি মিশিয়ে বিস্ফোরক তৈরি। মুজাম্মিলদের কাছ থেকে কী কী উদ্ধার করল গোয়েন্দারা, কীভাবে হামলার ছক বানানো হয়েছিল?

বিস্ফোরণের পর দিল্লির ওই এলাকা
শেষ আপডেট: 27 November 2025 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরের ১০ তারিখে দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের (Delhi Car Blast) ঘটনায় উঠে এল বড়সড় চক্রান্তের হদিস। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (Intelligence Agencies) সূত্রে খবর, আত্মঘাতী হামলাকারী উমর উন নবি (Umar un Nabi)-ই নাকি এই মডিউলের মূলচক্রী। তদন্তকারীদের দাবি, ফারিদাবাদ (Faridabad, Haryana) থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক নিয়ে কাশ্মীর (Jammu & Kashmir)-এ ‘কিছু বড়সড়’ করার ছক কষছিল অভিযুক্তরা।
নেল পলিশ রিমুভার-চিনি দিয়ে বিস্ফোরক!
তদন্তে উঠে এসেছে, অ্যাসিটোন (Acetone) যাকে সাধারণভাবে নেল পলিশ রিমুভার (Nail Polish Remover) বলা হয় এবং গুঁড়ো চিনি (Powdered Sugar) মিশিয়েই তৈরি হত বিস্ফোরক (Explosives)। গোয়েন্দাদের দাবি, লাল কেল্লা বিস্ফোরণ ও ফারিদাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের পিছনেও উমর উন নবি, যাকে ডাকা হত ডক্টর উমর বলে, ছিল মূল মাথা। হুন্ডাই i20 (Hyundai i20) গাড়ি চালাচ্ছিল সে-ই, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়।
ধর্মের নামে চরমপন্থা, নিজেকে ডাকতেন ‘আমির’
সহ-অভিযুক্ত ডক্টর মুজাম্মিলকে (Dr Muzammil) জেরা করে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুজাম্মিল জানিয়েছে, উমর নিজেকে ডাকত ‘আমির’ যার অর্থ নেতা, কমান্ডার বা শাসক। বলত, ‘এই দেশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, মেরুকরণ (Polarisation) বাড়ছে, গণহত্যা (Genocide) হতে পারে।’
উমর নাকি ন’টির বেশি ভাষা জানত, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি, আরবি, ফারসি, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চ-সহ আরও কয়েকটি। বুদ্ধিমত্তা ও কথাবার্তার জোরে দলের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল তার।
কাশ্মীরে বড়সড় হামলার ছক
মুজাম্মিলের বক্তব্য, ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের (Article 370) পর থেকেই উমরের নিরাপত্তাবাহিনীর প্রতি তীব্র ঘৃণা তৈরি হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, ফারিদাবাদে জমা বিস্ফোরক ও পুরো দল নিয়ে জম্মু–কাশ্মীরে গিয়ে নিরাপত্তাবাহিনীকে টার্গেট করা।
দলের মূল সদস্য উমর, মুজাম্মিল, আদিল, শাহিন ও মুফতি ইরফান। উমরই দলের নেতা। দলের জন্য তৈরি হয়েছিল একটি চাইনিজ ভাষার গ্রুপচ্যাট (Chinese Group Chat) আর উমর? ছ’মাসেই চাইনিজ শিখে নেয়।
অর্থ, সদস্য জোগাড় ও বিদেশি যোগ
মুজাম্মিলের স্ত্রী ডক্টর শাহিন পেশায় অধ্যাপিকা, তিনি না কি ২৫ লক্ষ টাকা জোগান দেয় মডিউলে। আরও জানা গেছে, ভবিষ্যতে আফগানিস্তান বা সিরিয়ায় (Afghanistan, Syria) যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল উমরের। আর তার আগে তুরস্কে (Turkey) গিয়েছিল প্রশিক্ষণ নিতে, যেখানে ‘উকাসা’ নামের কোডে চিহ্নিত হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘরে বিস্ফোরক পরীক্ষা
২০২৩ সাল থেকে উমর ও আদিল নু-হ–মেওয়াট (Nuh–Mewat) অঞ্চল থেকে সার (Fertiliser) কিনে এনে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al Falah University) ঘরে জমাচ্ছিল। ডাক্তার হওয়ায় তাদের গাড়ি তল্লাশি হত না। সেই সুযোগেই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক TATP তৈরি করত উমর। জেরা করে পাওয়া গেছে, আল ফালাহর হোস্টেল রুমেই বিস্ফোরক পরীক্ষা করা হত।
একটা পোস্টার থেকে ধরা পড়ল 'হোয়াইট কলার মডিউল'
এই বিস্ফোরণ ও মডিউলের যোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এদের পরিকল্পনা সফল হলে কাশ্মীরে বড়সড় হামলার ঘটনাও ঘটতে পারত।