
নির্বাচন কমিশন - প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 16 March 2024 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে করতে 'কবি' হয়ে পড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার। শনিবার লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ করার সময় থেকে থেকে তাঁর মুখে শোনা শের-শায়েরি। একসময় তো উপস্থিত সাংবাদিকরাও হাততালি দিয়ে উঠলেন তাঁর কবিতা পড়া শুনে।
ভোটারদের ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ঝুঠ কে বাজার মে রৌনক তো বহুত হ্যায়, গয়া বুলবুলে জ্যায়সি হি তুরন্ত হি ফাট জাতি হ্যায়, পকাড় ভি লোগে তো ক্যায়া হাসিল হোগা সিবায়ে ধোকে কি। অর্থাৎ মিথ্যার বাজারে অনেক চাকচিক্য আছে। কিন্তু তা বুদবুদের মতো খুব তাড়াতাড়ি ফেটে যায়। যদি তুমি সেই বুদবুদকে ধরারও চেষ্টা করো তাহলে ফাঁকি ছাড়া কিছুই পাবে না।
রাজনৈতিক দলগুলিকে ঘৃণা ভাষণের বিরুদ্ধে সাবধানবাণী ও পরামর্শ দিতে গিয়েও রাজীব কুমার সকলকে লক্ষ্মণগণ্ডি না পেরনোর কথা বলেন। এই কথার উদাহরণে ফের একবার শায়েরি করে বলেন, দুশমনি জম কর করো, লেকিন ইয়ে গুঞ্জাইশ রহে, জব কভি হাম দোস্ত হো জায়েঁ তো শর্মিন্দা না হো। অর্থাৎ শত্রুতা করো ক্ষতি নেই, কিন্তু এই অনুরোধ রইল, যদি কখনও আমরা বন্ধু হয়ে যাই, তাহলে যেন লজ্জায় মাথা নিচু না হয়ে আসে।
মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার আবদুর রহিম খানের কবিতারও উল্লেখ করেন সাংবাদিক সম্মেলনে। বলেন, রাহিমান ধাগা প্রেম কা মত তোড়ো ছিটকায়ে, টুটে সে ফির না মিলে, মিলে গান্ঠ পড় জায়ে। অর্থাৎ প্রেমের সুতো ছিঁড়ে ফেল না। যদি এটা ছিঁড়ে যায় তাহলে আর কোনওদিন জোড়া লাগে না। যদি জোড়া লাগে তো তাতে গিঁট পড়ে যায়।
ইভিএমে কারচুপি নিয়ে এদিন রাজনৈতিক দলগুলিকে রসিকতা করতেও ছাড়েননি রাজীব কুমার। তিনি বলেন, আমি জানি ইভিএম কারচুপি নিয়ে বিতর্ক উঠবেই। তাই তিনি এর জবাবে একটি শায়েরি লিখেছেন। তিনি বলেন, আধুরি হাসরাতো কা ইলজাম, হর বার হাম পর লাগন ঠিক নহি, ওয়াফা খুদ সে নেহি হোতি, খতা ইভিএম কি কহেতা হো, অউর বাদ মে জব পরিণাম আতা হ্যায় তো উসপে কায়াম ভি নহি রহেতে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, ইভিএম কারচুপি নিয়ে প্রতিবার আমাদের উপর অভিযোগ তোলাটা ঠিক কাজ নয়। কারণ এই অভিযোগের পর তারাই যখন জিতে যায়, তখন আর এই দাবি করে না। এভাবেই একের পর এক কবিতার পংক্তিতে এদিনের খটখটে ভাষণকে কবিতার রসে ভিজিয়ে রাখেন রাজীব কুমার।