
কোভিডের সব টিকা পর্যালোচনা করার আর্জি
শেষ আপডেট: 10 May 2024 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বব্যাপী করোনা অতিমারিকে ঠেকাতে ভ্যাকসিনই ভরসা ছিল। সেই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কোভিশিল্ডেই বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া! অ্যাস্ট্রাজেনেকা সংস্থার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা যারা নিয়েছিলেন, এই খবর জানার পর তাদের রাতের ঘুম উড়েছে। আর অ্যাস্ট্রাজেনেকা যখন অভিযোগের দায় স্বীকার করল তখন গোটা বিশ্ব জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে কোভিডের সব টিকা পর্যালোচনা করার আর্জি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন।
‘অ্যাওয়েকেন ইন্ডিয়া মুভমেন্ট’ হল চিকিৎসকদের গোষ্ঠী। সেই সংগঠনের তরফেই কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, কোভিডের সমস্ত টিকার পর্যালোচনা করা হোক। সরকারের কাছে ওই চিকিৎসক গোষ্ঠীর আবেদন, যত কোভিড টিকা রয়েছে তার নেপথ্যের বিজ্ঞান যাচাই করা হোক। এছাড়াও এই টিকার বাণিজ্যিকীকরণ অডিট করার পক্ষে সওয়াল করেছে সংগঠন।
এছাড়াও সংগঠন চাইছে কোভিড টিকা নিয়ে কড়া নজরদারি করা উচিত। চিকিৎসক গোষ্ঠীর মতে, ভ্যাকসিনের ক্ষতিকারক দিকগুলি খুঁজতে এই টিকা তৈরির প্রক্রিয়াতেও নজরদারি চালাতে হবে।
কোভিশিল্ডের কারণে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম বা টিটিএস নামের বিরল রোগের সম্ভাবনা রয়েছে যেখানে শরীরে রক্ত তঞ্চন বা রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জেরে হার্ট অ্যাটাক অবধি হতে পারে। খবরটি সামনে আসতেই ওই ভ্যাকসিন প্রাপকদের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন তৈরির দায়িত্ব ছিল সেরাম ইনস্টিটিউটের। ইতিমধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং সেরামের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছে।
গত ৮ মে অ্যাস্ট্রাজেনেকা বিশ্বব্যাপী কোভিড টিকা তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বাজারে আর পাওয়া যাবে না অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা। বিবৃতি জারি করে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, করোনার ভ্যাকসিন আর তৈরি করা হচ্ছে না।
করোনাকালে মূলত কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন টিকা দেওয়া শুরু হয় ভারতে। যদিও অধিকাংশ মানুষই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছিলেন যা ভারতে কোভিশিল্ড নামে বানিয়েছে সিরাম ইন্সটিটিউট। এদিকে কোভ্যাক্সিন-এ কোনও সাইড এফেক্ট নেই, কোভিশিল্ড বিতর্কের মাঝে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছে ভারত বায়োটেক।