
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 April 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ওয়াকফ আইনের (Waqf Act) উপর বুধবার পয়লা শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme court) স্থগিতাদেশ দেয়নি। তবে শীর্ষ আদালতে গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার (Narendra Modi government) । আইনটি নিয়ে বিরোধী দল এবং মুসলিম সংগঠনগুলির (Muslim orgamnisation) মূল প্রশ্নটিই শীর্ষ আদালত সরকার পক্ষের দিকে ছুড়ে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না বুধবারের শুনানিতে প্রশ্ন তুলেছেন, হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালন পর্ষদে কি কোনও অ-হিন্দুকে রাখা হবে। সরকার কি এমন কোনও আইন করতে পারবে? নতুন ওয়াকফ আইনে ওয়াকফ বোর্ড/কাউন্সিলে ন্যূনতম দু’জন অমুসলিম সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই প্রশ্ন তুলেছে।
শীর্ষ আদালত ওয়াকফ মামলার মূল দাবি নিয়ে দীর্ঘ শুনানির কথা জানিয়ে আপতত আইনটির তিনটি ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ জারির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে বুধবার। বৃহস্পতিবার ফের ওয়াকফ মামলার শুনানি হওয়ার কথা। আইনের যে তিনটি অংশ নিয়ে আদালত স্থগিতাদেশের ইঙ্গিত দিয়েছে সেগুলি হল, ঘোষিত ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা অক্ষত রাখতে হবে। সেখান থেকে কোনও সম্পত্তি আপাতত বাদ দিতে পারবে না সরকার বা কর্তৃপক্ষ। সমস্যায় জড়িয়ে থাকা ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে জেলাশাসকেরা বিবাদ মীমাংসার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে তাঁদের আদেশ আপাতত কার্যকর হবে না। এছাড়া, পদাধিকার বলে ওয়াকফ বোর্ড/কাইন্সিল কোনও সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন না। আপাতত মুসলিমরাই সদস্য থাকবেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, নতুন আইনে ওয়াকফ পর্যদের ২২জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৮ জন মুসলিম হবেন। বাকিরা মুসলিম না হলেও চলবে। জবাবে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, দু’জনের বেশি অমুসলিম সদস্য হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কেন্দ্রকে এই বক্তব্য হলফনামা দিয়ে জানানোর সুযোগ দেওয়া হোক। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, তিনটি ধারায় স্থগিতাদেশ জারি হলেও কেন্দ্র বিপাকে পড়বে। স্থগিতাদেশ আটকাতে সরকারি আইনজীবীরা বুধবার মরিয়া লড়াই চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁরা কী কৌশল নেন সেটাই দেখার।
শেষ পর্যন্ত ওয়াকফ আইনের কিছু ধারায় শীর্ষ আদালত স্থগিতাদেশ দিলে সেটা হবে অনেকটাই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমার, বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে, ওয়াকফ আইনটির বিষয়ে তারা ভিন্ন পদক্ষেপ করতে পারেন। এখন দেখার বৃহস্পতিবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত কী বলে। কিছু ধারায় স্থগিতাদেশ দিয়ে মূল মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চ বা সাংবিধানিক বেঞ্চের বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন প্রধান বিচারপতি।