নতুন নিয়মটি ঘোষণা হওয়ার পরই তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা- ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, বিনামূল্যে ৬০ শতাংশ সিট দেওয়ার নির্দেশ মানলে তাদের আয় কমে যাবে এবং আয় পুনরুদ্ধারের জন্য বিমান ভাড়া বাড়াতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 March 2026 09:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ এখন আরও স্বস্তির! ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (Directorate General of Civil Aviation) ঘোষণা করেছে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকেই সমস্ত বিমানে অন্তত ৬০ শতাংশ আসন বাছাইয়ের (Free Seat Allocation) জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না, পুরোটাই করা যাবে বিনামূল্যে। ডিজিসিএ-র (DGCA) ২০ মার্চের সংশোধিত এয়ার ট্রান্সপোর্ট সার্কুলার অনুযায়ী এই নিয়ম কার্যকর হবে ৩০ দিনের মধ্যে।
আগে যাত্রীরা মাত্র ২০ শতাংশ সিট বিনামূল্যে পেতেন, বাকি সিটের জন্য বিমান সংস্থা (Airlines) ২০০ থেকে ২,১০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ করত। টাকার অঙ্ক সিটের অবস্থান বা অতিরিক্ত লেগরুম অনুযায়ী নির্ভর করত। নতুন নিয়মে বিমান সংস্থাগুলোকে সিট বরাদ্দ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে এবং যাত্রীদের জন্য সহজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিসিএর মতে, একই PNR-এর যাত্রীদের সম্ভব হলে কাছাকাছি বা একসাথে বসানো হবে, সাধারণত একই সারিতে। এছাড়া, যে কোনও অতিরিক্ত পরিষেবা যেমন স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট বা বাদ্যযন্ত্র বোঝাই সংক্রান্ত খরচ ও শর্তসমূহও স্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে।
কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রক মার্চের মাঝামাঝি সময় নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে যাত্রীদের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। ডিজিসিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিমান সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে নতুন নিয়মটি ঘোষণা হওয়ার পরই তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা- ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, বিনামূল্যে ৬০ শতাংশ সিট দেওয়ার নির্দেশ মানলে তাদের আয় কমে যাবে এবং আয় পুনরুদ্ধারের জন্য বিমান ভাড়া বাড়াতে হবে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA) মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুরোধও করেছে।
ভারতের বিমানবন্দরগুলো দিনে ৫ লাখেরও বেশি যাত্রী পরিচালনা করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যাত্রীদের জন্য সিট নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও সুবিধাজনক এবং স্বচ্ছ হয়ে যাবে। তবে বিমান সংস্থাগুলো এখনও তাদের রাজস্ব ক্ষতির সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
DGCA-এর এই উদ্যোগ যাত্রীদের আর্থিক বোঝা কমাতে এবং বিমান ভ্রমণকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।