
দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।
শেষ আপডেট: 4 December 2024 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগপুরের কাউন্সিলার থেকে তৃতীয়বারের জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। একেবারে সিনেমাটিক উত্থান দেবেন্দ্র ফড়নবিশের জীবনে। মাত্র ৫৪ বছরের জীবনে রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চাণক্য-বুদ্ধিতে পথের নানান কাঁটা উপড়ে ফেলে ফের মুখ্যমন্ত্রীর পাগড়ি পরতে চলেছেন। বুধবার বিধান পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পরেই দেবেন্দ্র বলেন, এক হ্যায় তো সেফ হ্যায়।
ভোটে বিপুল জয়ের পরেও লাগাতার টালবাহানায় মুখ্যমন্ত্রী মুখ নির্বাচনের বৈতরণী অবশেষে আরব সাগরের পাড়ে ভিড়ল বুধবার সকালে। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার আগে এদিনই দুপুরে রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন ফড়নবিশ। সঙ্গে থাকবেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ও জোট নেতা অজিত পাওয়ারও।
বিজেপির দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার ফড়নবিশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবসময় বলেন সমস্ত ধর্মগ্রন্থের চেয়ে ভারতের সংবিধানই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে। ভোটের ফলাফলে আমি খুশি। আমার উপর এক নয়া দায়িত্ব কাঁধে চাপল। আবার একবার প্রমাণ হল, মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বৈঠক করবেন একনাথ শিন্ডে ও অজিত পাওয়ারের সঙ্গে।
কে মহারাষ্ট্রের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ?
ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা জারির সময় তাঁর বাবাকে জেলে পাঠিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। যা কিশোর দেবেন্দ্রর মনে তিক্ত ছাপ ফেলেছিল। নাগপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। ছাত্র বয়স থেকেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
সেই থেকে রাজনীতি করে ১৯৮৯ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে কনিষ্ঠতম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং মাত্র ২৭ বছর বয়সে নাগপুরের কনিষ্ঠতম মেয়র হন দেবেন্দ্র। বাবা গঙ্গাধররাও ফড়নবিশকে ইন্দিরা জমানায় জেলে যেতে হওয়ায় দেবেন্দ্র রাগে ইন্দিরা কনভেন্ট নামে স্কুল ছেড়ে দিয়ে সরস্বতী বিদ্যালয় নামে একটি স্কুলে নতুন করে ভর্তি হন। তিনি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পাশ করেন আইনে স্নাতক হওয়ার পর। রাজনীতির শুরুতে দেবেন্দ্রর কাজ ছিল দেওয়ালে পোস্টার সাঁটা ও দেওয়াল লিখন করা। পরপর দুবার নাগপুরের মেয়র হন। ২০১৪ সালে রাজ্যের অষ্টাদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গদিতে বসেন।
উল্লেখ্য, এদিনই যাবতীয় দ্বিধা-সংশয়-জল্পনা কাটিয়ে বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ তৃতীয়বারের জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার সবুজ সংকেত পেয়ে যান। বুধবার বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে বিধান পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। দুপুর ৩টে নাগাদ রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন ফড়নবিশ। উল্লেখ্য, আগামিকাল, বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে মহাসমারোহে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। রাজ্যপাল আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন করতে আহ্বান জানানোর আগেই দেবেন্দ্র ফড়নবিশের শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে এদিন অভিযোগ তুলেছে উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর শিবসেনা।
এদিন সকালে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পৌরোহিত্যে কোর কমিটির বৈঠকে দেবেন্দ্রর নামেই সিলমোহর দেন দলীয় বিধায়করা। চন্দ্রকান্ত পাটিল ও সুধীর মুঙ্গান্তিকর আনুষ্ঠানিকভাবে দেবেন্দ্র সারিটাতাই গঙ্গাধররাও ফড়নবিশের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবকে সমর্থন করেন পঙ্কজা মুন্ডে। বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে এইদিনটাকে ঐতিহাসিক ও উৎসবের দিন বলে ঘোষণা করেন।
বৈঠকের শুরু থেকেই ফড়নবিশের নাগপুরের বাড়ির সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা জমায়েত হতে শুরু করেন। ঢোল-কাড়া-নাগাড়া বাজিয়ে নাচগান শুরু হয়ে যায়। নাগপুর থেকে অসংখ্য বিজেপি কর্মী মুম্বই রওনা হতে শুরু করেছেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে। বিজেপি সভাপতি বলেন, রাজ্যে ফের একবার শুরু হতে চলেছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার।
এদিন বৈঠকে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই উচ্ছ্বসিত বিজেপি বিধায়করা বিধান ভবনের ভিতরের জয় শ্রীরাম, ভারতমাতা কি জয় এবং দেবা ভাউ তুম আগে বাড়ো স্লোগানে বাতাস ভারী করে তোলেন। উল্লেখ্য, এবার রাজ্যে ১৪৯টি আসনে লড়াই করে ১৩২টি আসনে জিতেছে বিজেপি। যা রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়াও তদারকি মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা ৫৭টি এবং অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর এনসিপি ৪১ আসনে জয়ী হয়।