
শিপ্রা নদীর তীরে মহাকাল মন্দির। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 September 2024 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে প্রতি বারো বছর পর মহাকুম্ভ আয়োজিত হয়ে থাকে। সে জন্য এখন থেকেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দেশের কয়েক হিন্দু সাধু ও সাধারণ পূণ্যার্থী মহাকুম্ভ উপলক্ষে উজ্জয়ন যাত্রা করবেন। তাঁদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াত-সহ নানা বিষয়ে সরকারি প্রস্তুতি কমিটি সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে।
এমনই একটি বৈঠকে ভারতীয় সাধু সমাজের অন্যতম সংগঠন আখাড়া পরিষদ দাবি পেশ করেছে মহাকুম্ভ উপলক্ষে শিপ্রা নদীতে আয়োজিত বিশেষ স্নানের নাম শাহি স্নান রাখা যাবে না। আখাড়া পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র পুরী মহারাজের বক্তব্য, শাহি শব্দটি ভারতীয় নয়। এই শব্দটির সঙ্গে সুলতানি এবং মোঘল শাসনের সম্পর্ক রয়েছে। নামটি বাদ দিতে হবে।
আরবি শব্দ শাহি’র অর্থ রাজকীয়, সম্মানীয়।মহাকুম্ভের প্রথম দিন শাহি স্নানের আয়োজন করা হয়। সেদিন সূর্যাস্তের আগে সাধুরা আখাড়া থেকে বের হন স্নানের উদ্দেশ্যে। ভক্তরা সে জন্য রাজকীয় আয়োজন করে থাকে। সাধুরা হাতি, ঘোড়ার পিঠে চড়ে শোভাযাত্রা করে যাতায়াত করেন। ভক্তরা নদীতে যাওয়ার পথের দু-পাশ ফুল-আলো দিয়ে সাজায়। সম্ভবত হিন্দুদের উৎসবের আয়োজন থেকেই সুলতানি কিংবা মোঘল শাসনের সময় শাহি শব্দটি যুক্ত করা হয়।
সরকারি কমিটি আখাড়া পরিষদের প্রস্তাব নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। আখাড়া পরিষদও জানিয়েছে তারা গোটা দেশের সাধু সমাজের মতামত নিয়ে বিকল্প নাম প্রশাসনকে জানাবে।
এর আগে উজ্জয়নের শাহি সবারী বা শাহি শোভাযাত্রা নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। প্রতিদিন বিকালে উজ্জয়ন মন্দিরের মহাকাল দেবতা অর্থা শিব নগর পরিক্রমায় বের হন। মহাকালের পাথের মূর্তিকে রাজার বেশে সাজিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। তার আগে মন্দির প্রাঙ্গনে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ দেবতাকে গান স্যালুট দেয়।
মহাকালের শোভাযাত্রার সামনে, পিছনে থাকে পুলিশের পাইলট কার। গোটা শোভাযাত্রার প্রহরার দায়িত্বে থাকে আধা সেনার কমান্ডো বাহিনী। মহাকালের যাত্রাকালে নগরবাসী বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ান। সাময়িক বন্ধ থাকে দোকান-বাজার। শিপ্রা নদীতে স্থান সেরে একই পথে মন্দিরে ফিরে আসেন মহাকাল। সেই শাহি শোভাযাত্রার নাম বদলে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নাম বদলে রেখেছেন রাজসী সবারী বা রাজকীয় শোভাযাত্রা। বাদ দেওয়া হয় শাহি শব্দটির।