
দুপুর সাড়ে ১২টায় দূষণের সূচক ছিল ৯৭৮।
শেষ আপডেট: 18 November 2024 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তীব্রতর দূষণে দিল্লির মানুষের হাঁসফাঁস দশা। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে বাড়ছে ধূলিকণা ও কার্বনজাত রাসায়নিক। এই অবস্থায় ফুসফুস বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের দিনে ৪৯টিরও বেশি সিগারেট খাওয়ার সমান হয়ে গিয়েছে রাজধানীর দূষণ পরিস্থিতি। সোমবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ভয়াবহ দূষণ বেলার দিকে হাওয়া দেওয়ায় কিছুটা হলেও কমেছে। তাও দুপুর সাড়ে ১২টায় দূষণের সূচক ছিল ৯৭৮। যা রোজ ৪৯.০২টি সিগারেট খাওয়ার সমতুল।
দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানায় বায়ুদূষণের সূচক ছিল ৬৩১। যা দিনে ৩৩.২৫টি সিগারেট খাওয়ার সমতুল। উত্তরপ্রদেশে বায়ুদূষণ ছিল ২৭৩। অর্থাৎ দিনে ১০.১৬টি সিগারেট খাওয়ার সমান। বাংলায় বায়ুদূষণ সাড়ে ৭টি সিগারেট খাওয়ার সমতুল ছিল এদিন।
এদিকে, দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা তীব্রতর হয়ে ওঠা সত্ত্বেও গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন লাগু করতে দেরি করায় আম আদমি পার্টির সরকার ও কেন্দ্রীয় কমিশনকে দুষল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার রাজধানীর দূষণ নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধির চতুর্থ স্তরের নিষেধাজ্ঞা চালু থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং অগাস্টিন জর্জ মসিহ্-কে নিয়ে গঠিত এক বেঞ্চ দিল্লি সরকারকে বলেছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে। বেঞ্চ বলে, আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনওভাবেই গ্র্যাপ স্টেজ ফোরের নীচে নিষেধাজ্ঞাবিধি যেন না নামানো হয়। যদি বাতাসে দূষণের পরিমাণ ৪০০-র নীচেও নেমে যায়, তাহলেও যেন চতুর্থ স্তরের নিরাপত্তা মেনে চলা হয়। এটাই আদালতের নির্দেশ।
কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের কাছে আদালত জানতে চেয়েছে, শহরে গ্র্যাপ বিধি কবে, কখন থেকে লাগু করা হয়েছে। জবাবে কমিশন জানায়, দূষণের সূচক ৪০০ ছুঁলেই গ্র্যাপ বিধি লাগু করার নিয়ম, তাই করা হয়েছে। আমরা দু-তিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে এই বিধি লাগু করেছি, জানায় কমিশন। এই জবাবে আদালত কমিশনকে ভর্ৎসনার সুরে বলে, আপনাদের দিক থেকে দেরিতে বিধি চালু করাই গাফিলতি হয়েছে। ৩০০ সূচক পেরনোর পর আপনারা বিধি চালু করে দেরি করেছেন। কেন তিনদিন ভাবতেই কেটে গেল, জানতে চায় বেঞ্চ।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১০টার সময় সুইস এয়ার টেকনোলজির কোম্পানি আইকিউএয়ারের পরিমাপক অনুযায়ী দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার দূষণ 'বিপজ্জনক' আকার নেয়। দেশীয় যন্ত্রে বায়ুদূষণের পরিমাণ ৪০০-৫০০র মধ্যে থাকলেও সুইস এয়ার টেকনোলজি কোম্পানির আইকিউএয়ারের পরিমাপে দিল্লির দূষণ ১৩০০ থেকে ১৬০০য় পৌঁছল। হিন্দুস্থান টাইমস এই খবর জানিয়েছে।
প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে দিল্লি ও লাগোয়া এলাকা ভয়াবহ দূষণে ভরে গিয়েছে। এই কদিন খারাপ, খুব খারাপ, তীব্র স্তরে থাকলেও সোমবার সবকিছুকে ছাপিয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় চলে গিয়েছে দূষণের মাত্রা। দূষণের কারণে এর আগেই দিল্লিতে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা গ্র্যাপ-এর তৃতীয় স্তরের সাবধানতা পালন করা হচ্ছিল। এদিন পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবশেষে চতুর্থ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করল প্রশাসন।
গত কয়েকদিনের মতো এদিনও দিল্লির ভোরের আকাশ ছিল ঘন ধোঁয়াশায় ঢাকা। সকাল ১০টা পর্যন্ত চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল। মুন্ডকা, দ্বারকা সেক্টর ৮ এবং রোহিনীতে সবথেকে খারাপ ছিল বায়ুদূষণের পরিমাণ। এই তিন জায়গায় যথাক্রমে ১৫৯১, ১৪৯৭ ও ১৪২৭ ছিল সূচক।
যদিও সমীর অ্যাপ, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের জাতীয় বায়ুদূষণের সূচক সরকারি মাধ্যম, যারা ঘণ্টায় ঘণ্টায় দূষণের সূচক প্রকাশ করে, তাদের হিসাব অনুযায়ী দিল্লিতে সর্বমোট দূষণের মাত্রা ছিল ৪৮৫ (ওই একই সময়ে)। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের হিসাবে ক্ষতিকরের বেশি সূচক থাকলেও বহু জায়গাতেই দূষণের মাত্রা ছিল ৪৭০-৫০০।
দূষণের জেরে গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে তীব্র অন্ধকার নেমে আসে ভোরের দিকে। এর ফলে বহু জায়গায় দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। যথারীতি বিঘ্ন ঘটে ট্রেন ও বিমান চলাচলে। ধোঁয়াশার কারণে নয়াদিল্লি ও আনন্দ বিহারমুখী অন্তত ২৮টি ট্রেন ২ থেকে ৯ ঘণ্টা দেরিতে চলছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর খবর অনুযায়ী ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০টির বেশি উড়ান সকাল সাড়ে ৮টার আগে উড়তে পারেনি। সকালের ৭টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে খারাপ দৃশ্যমানতার কারণে।