
রাজ্যপাল সম্মেলন হতে চলেছে
শেষ আপডেট: 2 August 2024 07:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দিল্লিতে শুরু হচ্ছে রাজ্যপালদের সম্মেলন। চলবে শনিবার পর্যন্ত। দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এই প্রথম রাজ্যপাল-উপরাজ্যপালদের সামনে ভাষণ দেবেন। দু’দিনের সম্মেলনে বাকি বক্তারা হলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রমুখ। এছাড়া কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বিষয়ে অভিজ্ঞ কয়েকজন সংবিধান বিশেষজ্ঞও বলবেন।
সরকারি সূত্রের খবর, দু’দিনের সম্মেলনে রাজপালেরা কীভাবে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন সে বিষয়ে কথা হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত ইস্যুতে রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের বিবাদ চলছে সেগুলির বিষয়ে দিল্লির কথা রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরতে রাজ্যপালদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সম্মেলনে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, সম্মেলনের টকিং পয়েন্ট নিয়ে তৈরি নোটে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল ও রাজভবনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও সক্রিয় করে তুলতে হবে।
নরেন্দ্র মোদী জমানায় অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালদের সংঘাত নতুন নয়। তামিলনাড়ু, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী দেখাসাক্ষাৎ বন্ধ। অবিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যের বিল রাজভবন আটকে রেখেছে। তা নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যপালদের সতর্ক করলেও সমস্যা মেটেনি। বাংলায় উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শীর্ষ আদালত কমিটি সার্চ কমিটি গড়ে দিয়েছে উপাচার্য বাছাইয়ের জন্য।
রাজ্যপাল সম্মেলনের এজেন্ডা দু’দিন আগে প্রকাশ করেছে সরকারি প্রচার সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো। সেখানে উচ্চশিক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নয়া শিক্ষানীতি কার্যকরে রাজভবনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এই বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। নয়া শিক্ষানীতি চালুর পর থেকেই রাজ্যপালেরা তা কার্যকরে রাজ্য সরকারগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।
তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে নয়া দণ্ড সংহিতা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য নতুন অপরাধ আইনের নানা ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। বাংলায় বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি একটি কমিটি গড়ে আইন খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
এজেন্ডায় আরও আছে, রাজ্যপালদের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে প্রচার ও সেগুলির বাস্তবায়নে ভূমিকা নিতে হবে। এছাড়া বলা হয়েছে, তঁদের নিয়মিত ভারত সরকারের এজেন্সিগুলির সঙ্গে কথা বলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ তদারক করতে হবে।