
নীতিন গড়কড়ি
শেষ আপডেট: 15 April 2025 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির ভয়াবহ বায়ু দূষণ নিয়ে সোমবার উদ্বেগজনক মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও সড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'দিল্লিতে যদি তিন দিন থাকেন, তাহলে আপনি কোনও না কোনও সংক্রমণে আক্রান্ত হবেন।' তিনি চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে আরও জানান, দিল্লির বিষাক্ত বাতাস একজন মানুষের গড় আয়ু ১০ বছর পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
শুধু দিল্লি নয়, মুম্বইকেও দূষণের 'রেড জোন' হিসেবে উল্লেখ করেন নীতিন গড়কড়ি। তিনি বলেন, 'আমরা পরিবেশ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখি না। আমাদের উচিত অর্থনীতি ও পরিকাঠামোর মতোই পরিবেশ ও নৈতিকতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া।'
মন্ত্রী জানান, আগামী দিনে বায়ু দূষণ রুখতে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার ও রোড ইন্সফ্রাস্ট্রাকচারের উন্নয়নকেও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার বলে তুলে ধরেন।
নীতিন গড়কড়ির মতে, ভারতে প্রতিবছর প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করা হয়, যা দূষণের অন্যতম বড় কারণ। তিনি বলেন, 'পেট্রোল ও ডিজেল দূষণের মূল উৎস। যানজটে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। তাই আমাদের জ্বালানির ধরন বদলাতে হবে। আমি বিকল্প জ্বালানির পক্ষে লড়ছি। আমি চাই ২২ লক্ষ কোটির আমদানির পরিবর্তে দেশের কৃষকদের পকেটে ১০-১২ লক্ষ কোটি টাকা ঢুকুক।'
তিনি দাবি করেন, বিকল্প জ্বালানির মাধ্যমে একদিকে যেমন দূষণ কমবে, তেমনি দেশের কৃষকরাও লাভবান হবেন। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতি আরও মজবুত হবে।
গড়কড়ির মতে, ভারতের ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে পরিবহণ, বিদ্যুৎ, জল ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তুলতেই হবে। বিশেষ করে, দেশের উচ্চতর লজিস্টিক্সের খরচ কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, 'চিনের লজিস্টিক্স খরচ ৮ শতাংশ, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১২ শতাংশ, অথচ আমাদের দেশে সেটা ১৪-১৬ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য এটাকে এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনা। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে আমরা এটা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারব বলে আশা করছি।'
নীতিন গড়কড়ির মন্তব্যের বিষয়বস্তু যদিও নতুন নয়। গত বছর ডিসেম্বরেও তিনি দিল্লির দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বলেছিলেন, 'প্রতিবার দিল্লিতে যাওয়ার সময় ভাবি, যাওয়া উচিত কিনা। এত ভয়ঙ্কর দূষণ, যে বারবার সংক্রমণে আক্রান্ত হতে হয়।'
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম দিল্লি। বহুবার নানা আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এই শহরের ভয়াবহ বায়ুমানের চিত্র। বিশেষ করে শীতকালে দূষণের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। গড়কড়ির এই মন্তব্য সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনল।