
ক্যাগ রিপোর্টে ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা
শেষ আপডেট: 28 February 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাঅডিটর জেনারেল (CAG) প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্টে দিল্লির স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ছ'বছরে আর্থিক কেলেঙ্কারি, গাফিলতি ও জবাবদিহিতার অভাব চরমে পৌঁছেছে। আজ দিল্লি বিধানসভায় রিপোর্টটি উপস্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমনিতেই ক্ষমতায় আসার তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই, মঙ্গলবার, দিল্লি বিধানসভায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি সরকার জমানার বিভিন্ন 'দুর্নীতি', 'অপকর্ম' ও 'কালা কাজ'এর বৃত্তান্ত বেআব্রু করে দিয়েছে বিজেপির রেখা গুপ্ত সরকার। আপ জমানার বিভিন্ন দফতরের কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে বিজেপি সরকার।
আগে আম আদমি পার্টি এই ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় প্রকাশ করেনি বলে অভিযোগ ছিল বিজেপির। ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারের দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল কেজরি সরকার, অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের।
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অভাব: দিল্লির ২৭টি হাসপাতালের মধ্যে ১৪টিতে আইসিইউ নেই, ১৬টিতে রক্তসংগ্রহ কেন্দ্র নেই, ৮টি হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ নেই এবং ১৫টি হাসপাতালে মর্গের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, ১২টি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নেই।
মহল্লা ক্লিনিকে দুর্বল পরিকাঠামো: অনেক মহল্লা ক্লিনিকে শৌচাগার, বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ও চিকিৎসা পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় টেবিল পর্যন্ত নেই। একই অবস্থা আয়ুষ ডিসপেনসারিগুলিতেও।
স্বাস্থ্যকর্মীদের তীব্র অভাব: দিল্লির হাসপাতালগুলিতে ২১% নার্স, ৩৮% প্যারামেডিক এবং কিছু হাসপাতালে ৫০%-৯৬% ডাক্তার ও নার্সের ঘাটতি রয়েছে।
জরুরি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ব্যবহার না করা: রাজীব গান্ধী ও জনকপুরী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ বেড ও প্রাইভেট রুম ব্যবহার হচ্ছে না। ট্রমা সেন্টারগুলিতে জরুরি সেবার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে।
কোভিড তহবিলের অপব্যবহার: কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ ৭৮৭.৯১ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫৮২.৮৪ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বরাদ্দ ৩০.৫২ কোটি টাকা অব্যবহৃত থেকে গেছে, পাশাপাশি ৮৩.১৪ কোটি টাকার প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পিপিই কিট ব্যবহার হয়নি।
হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ: প্রতিশ্রুত ৩২ হাজার নতুন শয্যার মধ্যে মাত্র ১,৩৫৭টি (৪.২৪%) সংযোজন করা হয়েছে। কিছু হাসপাতালে রোগী ধারণক্ষমতার ১০১%-১৮৯% ছাড়িয়ে যাওয়ায় মেঝেতে শুয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
প্রকল্পে দেরি ও ব্যয় বৃদ্ধি: বিভিন্ন হাসপাতালের নির্মাণ প্রকল্পে ৩-৬ বছর দেরি হয়েছে এবং খরচ ৩৮২.৫২ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। ইন্দিরা গান্ধী হাসপাতাল, বুরারী হাসপাতাল ও এমএ ডেন্টাল ফেজ-২ হাসপাতাল নির্মাণে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
অপারেশনের দীর্ঘ অপেক্ষা: লোকনায়ক হাসপাতালে সাধারণ অস্ত্রোপচারের জন্য ২-৩ মাস এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির জন্য ৬-৮ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনবিসি হাসপাতালে শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য এক বছরেরও বেশি সময় লাগছে।
সূত্রের খবর, এটি দিল্লি বিধানসভায় উত্থাপিত দ্বিতীয় CAG রিপোর্ট। এর আগে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দিল্লির আবগারি নীতির উপর CAG রিপোর্ট উপস্থাপন করেছিলেন।