
শেষ আপডেট: 7 January 2024 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসক হোক বা রোগী, 'লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া' শব্দবন্ধের সঙ্গে আজকাল অনেকেই পরিচিত। এর অর্থ হল, কোনও অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীকে সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞান না করে, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় দেহাংশটুকু অবশ করে দেওয়া করা হয়। রোগী সজ্ঞানে সেই অস্ত্রোপচারের কথা বুঝতে পারেন। পুরো বিষয়টা ভাবলে তাবড় তাবড় সাহসী মানুষও ঘাবড়ে যান। কিন্তু দিল্লির ৫ বছরের ছোট্ট মেয়ে এ ব্যাপারে শুধু তাক লাগিয়েই দেয়নি, রীতিমতো বিশ্বরেকর্ড করেছে। লোকাল অ্যানাস্থেশিয়ার মাধ্যমেই তার ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার করেছেন চিকিৎসকরা, পুরো সময়টা একটুও ভয় না পেয়ে পার করে ফেলেছে একরত্তি মেয়ে।
জ্ঞান থাকা অবস্থায় এই ধরনের অস্ত্রোপচারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় 'অ্যাওয়েক ক্র্যানিওটমি'। গত ৪ জানুয়ারি দিল্লির এইমসের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা ৫ বছরের শিশুটির মস্তিষ্কের বাঁদিকে থাকা পেরিসেলিয়ান ইন্ট্রাক্সিয়াল ব্রেন টিউমারটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নির্মূল করেছেন। এই পুরো পদ্ধতিটাই করা হয়েছে তার জ্ঞান থাকা অবস্থায়। দিল্লি এইমসের দাবি, ৫ বছরের এই একরত্তি মেয়ে হল বিশ্বের কনিষ্ঠতম, অ্যাওয়েক ক্র্যানিওটমির মাধ্যমে যার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ঘনঘন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়ার উপসর্গ নিয়েই এইমসে শিশুটিকে নিয়ে এসেছিলেন তার মা বাবা। সেখানে এমআরআই করাতেই মস্তিষ্কের বাঁদিকের অংশে টিউমারের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তারপরেই জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের অভিজ্ঞ নিউরোসার্জনরা। ৩ ঘণ্টা ধরে সার্জারির মাধ্যমে শিশুটির মাথা থেকে বের করে আনা হয় টিউমার। এই পুরো সময়টাই সজাগ ছিল খুদে রোগিণী।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের আগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়ে শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসা হয়। বিভিন্ন সাধারণ জিনিসপত্র, সাধারণ পশু পাখি দেখিয়ে কিছু প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় তার। অস্ত্রোপচারের আগে ল্যাঙ্গুয়েজ এবং সেন্সরিমোটর অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষাও করা হয়।
শুধু আগেই নয়, সার্জারির সময়েও একই জিনিস করে ব্যস্ত রাখা হয় ছোট্ট রোগিণীকে। এমনকী, ক্লাস ওয়ানের ছোট্ট মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি দেখিয়ে চিনতে বলা হয়, যে পরীক্ষায় এক চেষ্টাতেই পাশ করে যায় খুদে। এই পুরো সময়টা বরফ-ঠান্ডা স্যালাইন চালানো হয়েছিল, যাতে সার্জারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অজ্ঞান না হয়ে যায় শিশুটি।
সব কাজ মিটে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। কোনও সমস্যা নেই, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে শিশুটিকে।