
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 6 July 2024 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রথযাত্রার পরেই সম্ভবত খুলবে জগন্নাথের শ্রীমন্দিরের রত্নভাণ্ডারের তালা। শনিবার রত্নভাণ্ডার সম্পর্কিত নতুন তদারকি কমিটির বৈঠকে ঠিক হয়েছে, আগামী ৯ জুলাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের মেরামত ও দুর্মূল্য রত্নরাজি ঠিকঠাক আছে কিনা তা তদারকিতে নয়া বিজেপি সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে ক্ষমতায় আসার পর। সেই কমিটির মাথায় থাকা বিচারপতি বিশ্বনাথ রথ এদিন জানান, ৯ জুলাই রত্নভাণ্ডার খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
রথ এদিন স্পষ্টভাবে জানান, রত্নভাণ্ডারের ডুপ্লিকেট চাবি বাহির রত্নভাণ্ডারেই রয়েছে। শ্রীজগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের মুখ্য প্রশাসক ৯ জুলাই উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে সেই চাবি তুলে দেবেন। তবে দীর্ঘদিন অব্যবহারে জীর্ণ তালা যদি সেই চাবিতে না খোলা যায়, তাহলে তালা ভাঙা হবে। এবিষয়ে একটি কার্যাবলি প্রস্তুত করে তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
এদিন বৈঠকের শেষে রথ সাংবাদিকদের সামনে বলেন, রত্নভাণ্ডার খোলা, ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে সামগ্রিক কথাবার্তা হয়েছে। তালা ভাঙার বিষয়ে সরকারের অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রত্নভাণ্ডারের ভিতর জল চুঁইয়ে পড়ছে। সুতরাং চটজলদি তার মেরামতি প্রয়োজন। কিন্তু সেই কাজের জন্য জগন্নাথের সমস্ত অলঙ্কারাদি অন্যত্র সরাতে হবে। সে বিষয়েও সরকারের পরামর্শ ও অনুমোদন চাওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, রত্নাবলির মূল্য নির্ধারণ ও কোনটি কোন ধাতু বা রত্ন, তা চেনার কাজে সাহায্য করার জন্য জহুরির সাহায্য নেওয়া হবে। তবে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস উল্টোরথের আগেই রত্নভাণ্ডার খোলার চেষ্টা করা হবে।
পুরী সার্কলের এএসআইয়ের সুপার দিবিশাদ গড়নায়ক জানান, রত্নভাণ্ডারের গঠনগত অবস্থা খতিয়ে দেখবে ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ। গতবছর বাইরের দেওয়ালের লেজার স্ক্যানিংয়ে বেশকিছু ফাটল এবং জোড় দেওয়া এলাকায় চিড় ধরেছে বলে দেখা গিয়েছিল। এই ফাটলগুলি থেকে বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ভিতরে পড়তে পারে। সবমিলিয়ে বহু প্রাচীন এই রত্নভাণ্ডারের অবস্থা ভালো নয় বলে জানান গড়নায়ক।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহের কাছেই রয়েছে রত্নভাণ্ডার। এটাই মন্দিরের সবথেকে দামি প্রকোষ্ঠ। যুগ যুগ ধরে এখানে জমা হয়ে রয়েছে, জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার রত্নরাজি। হিরে, পান্না, চুনী, মুক্তোখচিত স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার। যার কিছুর দাম ধরা যেতে পারে, আর অসংখ্য এমন গয়না আছে, এখন যা দুষ্প্রাপ্য। মূল্যের নিক্তিতে যাকে ধরা যায় না।
এই রত্নভাণ্ডারের দুটি প্রকোষ্ঠ আছে। বাইরেরটি বিভিন্ন পালাপার্বণে খোলা থাকে। যেমন জগন্নাথের স্বর্ণবেশের সময়। কিন্তু, অন্দর মহলটি ১৯৭৮ সাল থেকে বন্ধ পড়ে রয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরের আইন অনুযায়ী, তিন বছর অন্তর এই প্রকোষ্ঠের অডিট হওয়ার কথা। কিন্তু, বন্ধ পড়ে থাকায় সেই থেকে কোনও অডিটও হয়নি।