
শেষ আপডেট: 10 March 2024 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েলের শূন্যস্থান পূরণে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নতুন আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি পাঁচজন অফিসারের প্যানেল থেকে একজন অফিসারকে বেছে নেবে কমিশনার পদে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন প্রবীণ মন্ত্রী এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। সরকারি সূত্রের খবর, অধীর চৌধুরীকে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি নাগাদ বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
কমিশনের আর এক কমিশনারের পদ গতমাস থেকেই শূন্য ছিল। দুটি পদই এক সঙ্গে পূরণ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এন গোপালস্বামী শুক্রবার দ্য ওয়াল-কে বসেছিলেন, একজন কমিশনার থাকলেও কমিশন পূর্ণাঙ্গ কমিশন হিসাবে কাজ করতে পারে। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার মনে করলে একাই লোকসভা ভোট পরিচালনা করতে পারবেন। তাতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলেই সরকার কমিশনারের দুটি পদ পূরণ করে নিতে চাইছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
পদত্যাগের কারণ হিসাবে অরুণ গোয়েল প্রকাশ্যে এখনও মুখ খোলেননি। কমিশনও এই ব্যাপারে টুঁ শব্দটি করেনি। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে অরুণ গোয়েলেরও জম্মু-কাশ্মীরে যাওয়ার কথা ছিল সেখানকার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে। সেই মতো বিমানের টিকিট এবং হোটেলের ঘর বুক করা হয়েছিল।
কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই দিন কমিশনের সদর দফতরে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লা এবং রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে অরুণ হাজির ছিলেন না। ওই বৈঠকে ভোটের জন্য কত আধা সেনা পাওয়া যাবে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। আধা সেনার জওয়ানদের বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে দিতে রেলের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হাজির ছিলেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার একাই দুই সরকারি কর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন উপ নির্বাচন কমিশনারদের পাশে নিয়ে।
শুক্রবারের বৈঠকের আগে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে যান দুই কমিশনার। কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাংবাদিক বৈঠকেও অরুণ গোয়েল গরহাজির ছিলেন। কমিশনের এক অফিসার জানান তিনি অসুস্থ বোধ করায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
কমিশন সূত্রের খবর, বিপুল দফা এবং হাজার হাজার আধা সেনা মোতায়েন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন অরুণ গোয়েল। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিপুল আধা সেনা মোতায়েন করা হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। জওয়ানদের দাপাদাপিতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
তাছাড়া, এপ্রিম-মে মাসে গরমের কথা বিবেচনায় রেখে তিনি অল্প দফায় ভোট শেষ করার পক্ষপাতী ছিলেন। অন্যদিকে, এই দুই ব্যাপারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের ভিন্ন মত ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অফিসারদের সঙ্গে আলোচনাতেও এই ব্যাপারে নিজের ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন অরুণ গোয়েল।
১৯৮৫ সালে ব্যাচের আইএএস অরুণ গোয়েল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত আস্থাভাজন অফিসার হিসাবে পরিচিত। ভারী শিল্পমন্ত্রকের সচিব থাকাকালে গত বছর তাঁকে তড়িঘড়ি আগাম অবসর দিয়ে নির্বাচন কমিশনার করা হয়। আগামী বছ ফেব্রুয়ারিতে তাঁর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার কথা ছিল। কমিশনে চাকরির মেয়াদ ছিল ২০২৭-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত।
তাঁকে তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশনার করায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা হলে সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, আর কোনও অফিসার কি ছিল না? কেন একজন বিশেষ অফিসারকে আগাম অবসর দিয়ে তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশনার করা হল? যদিও শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত অরুণের নিয়োগে সায় দেয়।
জানা যাচ্ছে, পদত্যাগ না করতে গোয়েলকে বারে বারে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি শোনেননি। ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
বিজেপির একটি সূত্রের বক্তব্য, বিতর্ক, বিবাদের জেরে পদত্যাগ করলেও অরুণের সঙ্গে সরকার ও শাসক দলের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদীই নন, তিনি সঙ্ঘ পরিবারের শীর্ষ নেতৃত্বেরও পছন্দের মানুষ। ফলে আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গেই অরুণকে দেখা যেতে পারে।