
প্রতীকী ছবি: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 12 November 2024 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিগান লাইফ স্টাইলের প্রধান লক্ষ্য হল কোনও প্রাণীকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা। খাবারের প্লেটে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু কিছুই থাকবে না। ভিগানিজমে বিশ্বাসীরা এটাকে নিয়ে গিয়েছেন চামড়া, উল বা মুক্তোর মতো বিষয়গুলোর দিকেও। আর এটাকেই বলা হয় ভিগানিজম, প্রতিনিয়ত এতে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।
ভিগানিজম হল এমন এক খাদ্যাভ্যাস, যেখানে মানুষ খাবারে প্রাণিজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে চলেন। তার মানেই যে তিনি শুধু মাছ, মাংস বা ডিম খান না, তা নয়। দুধ যেহেতু নানা রকম প্রাণীর কাছ থেকে আসে, তাই ভিগানরা দুধও এড়িয়ে চলেন। ফলে প্রাণীর দুধ থেকে তৈরি মাখন, ঘি, পনির, ছানা কিংবা মধু- সমস্ত কিছুই তাঁদের ডায়েট থেকে বাদ।
পিপল ফর দ্য এথিকাল ট্রিটমেন্ট অফ অ্যানিমালস (পেটা) ইন্ডিয়ার মতে, দুধের প্রতিটি ফোঁটায় মিশে থাকে ছেলে বাছুরদের যন্ত্রণা। দুধ দিতে পারবে না বলে তাদের কেটে ফেলা হয় কিংবা খেতে না দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। এক কথায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
আর মেয়ে বাছুরদেরও সাধারণত মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয় ও দুধের উৎপাদন যাতে বেশি হয়, তার জন্য বিভিন্ন জিনিস খাওয়ানো হয়। পেটা ইন্ডিয়ার মতে বাদাম ও অন্যান্য সহজ উপকরণ থেকে বাড়িতেই তৈরি করা যায় ভিগান দুধ। শরীরে পুষ্টির জন্য সেই সব দুধ খাওয়া যেতে পারে। তাহলে অবলা প্রাণীদের প্রাণ দিতে হয় না।
বিশ্ব ভিগান মাস (নভেম্বর) উপলক্ষে কলকাতায় পেটা একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। যা শুধু কলকাতা নয়, গোটা দেশ জুড়েই চলছে। পেটা ইন্ডিয়ার বিলবোর্ড কলকাতায় বসানো হয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বিল্ডিং-এর কাছে মা ফ্লাইওভারের উপরে। এর উদ্দেশ্য হল মানুষকে বোঝানো যে, গ্লাস গ্লাস দুধের কারণে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে বহু সংখ্যক বাছুর।