স্কুটারের চাবি হাতে নিয়ে চোখ ভিজে ওঠে চম্পার। তাঁর কথায়, “এ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এই স্কুটারটা শুধু আমার নয়— এটা আমার বাবার পরিশ্রম আর বিশ্বাসের প্রতীক।”

মেয়ের স্বপ্নপূরণ করলেন বাবা
শেষ আপডেট: 23 October 2025 14:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাষি বজরং রাম, আয়-রোজগার তেমন নেই, কিন্তু মেয়ে চম্পা ভাগতের একটি স্কুটার (Scooty) কেনার ইচ্ছে তিনি ভোলেননি। দাম প্রায় এক লক্ষ টাকা, যা তাঁর পক্ষে স্বপ্নের চেয়েও বড় সংখ্যা। কিন্তু বাবা হার মানেননি। প্রতিদিন সামান্য কিছু কয়েন জমাতেন একটি টিনের বাক্সে। ছ' মাস পর, সেই টিনের বাক্স ভরে উঠল স্বপ্নে। এক সকালে বজরং রাম কাঁধে তুলে নিলেন এক বস্তা কয়েন, আর পা বাড়ালেন কাছের হোন্ডা শোরুমে (Showroom)।
শোরুমের কর্মীরা প্রথমে অবাক, পরে সবটা শুনে তাঁরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। শোরুম ডিরেক্টর আনন্দ গুপ্তা বলেন, “এই ঘটনা শুধু টাকার কথা নয়, এটা শ্রম আর ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা। এমন একজন মানুষের জন্য গাড়ি বিক্রি করা আমাদের কাছে গর্বের।”
চা-বিস্কুটে আপ্যায়ন করে কর্মীরা শুরু করলেন কয়েন গোনা। কয়েনের টুংটাং শব্দে ভরে উঠল ঘর। যার প্রত্যেকটি যেন এক একটা দিনের আশা। এক বাবার ত্যাগের প্রতীক। শেষ পর্যন্ত হিসেব মিলল ৪০ হাজার টাকায়। বাকি অর্থের জন্য ঋণ নিলেন বজরং রাম। কাগজপত্র সেরে মেয়ের হাতে তুলে দিলেন একদম নতুন হোন্ডা অ্যাকটিভার চাবি।
স্কুটারের চাবি হাতে নিয়ে চোখ ভিজে ওঠে চম্পার। তাঁর কথায়, “এ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এই স্কুটারটা শুধু আমার নয়— এটা আমার বাবার পরিশ্রম আর বিশ্বাসের প্রতীক।”
দিনটা আরও স্মরণীয় করে তুলল শোরুমের “স্ক্র্যাচ অ্যান্ড উইন” অফার। ভাগ্যে মিলল একটি মিক্সার গ্রাইন্ডার! স্কুটারে চেপে যখন বাড়ির পথে রওনা হলেন বাবা-মেয়ে, আশপাশের লোক আর শোরুমের কর্মীদের হাততালিতে ভরে ওঠে চারপাশ।