.webp)
নরেন্দ্র মোদী - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 21 August 2024 16:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলিত ও আদিবাসী সমাজের ডাকা বুধবারের বনধে উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা-সহ হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে ভাল সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। প্রভাব পড়েছে পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, রাজস্থানেও।
এই রাজ্যগুলিতে বনধের প্রভাব পড়বে জানাই ছিল। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যতটা মনে হয়েছিল, প্রভাব পড়েছে তার বেশি।
বুধবারের বনধের মূল ইস্যু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের বিরোধিতা। শীর্ষ আদালত এক রায়ে বলেছে, তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের সংরক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রিমি লেয়ার অর্থাৎ আর্থিকভাবে সম্পন্নদের বাদ দিতে হবে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের সংরক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক মানদণ্ড নেই।
সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করা হলে এসসি ও এসটিদের বড় অংশ সংরক্ষণের সুবিধা বঞ্চিত হবেন। তাতে বিজেপির দলিত ও জনজাতি ভোটে ধস নামবে। আবার রায় কার্যকর না করা হলে জেনারেল ক্যাটিগরি বা সাধারণ বর্গের লোকেরা পদ্ম শিবিরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে, আশঙ্কা বিজেপি নেতৃত্বের।
সামনেই মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড ও জম্মু কাশ্মীর বিধানসভার ভোট। এরমধ্যে প্রথম তিন রাজ্যে সংরক্ষণ অন্যতম ইস্যু। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কথায়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জেরে ২০১৮ সালে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড় বিজেপির হাতছাড়া হয়েছিল। সেবার শীর্ষ আদালত এক রায়ে বলে, তফসিলি জাতি, উপজাতিদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা যাবে না। আগে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে অভিযোগ সঠিক কিনা।
ওই রায়ে তফসিলিদের ক্ষোভের মুখে নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে বিল এনে সেই রায় বদলে দেয়। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাধারণ বর্গের মানুষ, যাদের বিজেপির কোর ভোটার বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
বিজেপির চিন্তার আরও এক কারণ, লোকসভা ভোটে বিজেপির তফসিলি ভোট ব্যাঙ্কে ভাল ধস নেমেছে। আগের বারের তুলনায় এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসন বিজেপি অনেক কম পেয়েছে।
এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের রায় বিজেপিকে মহা বিপাকে ফেলেছে। বুধবারের বনধের চিত্র বলছে, সংসদে বিল এনে শীর্ষ আদালতের রায় খারিজ নাম করলে পিছড়ে বর্গের ভোট ধরে রাখা আরও কঠিন হবে। আবার, রায় বদলে দিলে ধস নামবে উচ্চবর্ণের কোর ভোট ব্যাঙ্কে। ফলে একূল-অকাল দুই কূল যাওয়ার জোগাড় হয়েছে বিজেপির।