
শেষ আপডেট: 21 January 2025 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক যেন প্রভাতকুমারের ‘আদরিণী’। ফারাকের মধ্যে এটুকুই, গল্পের আদুরে হস্তিনী আদরিণীর পালক, গৃহকর্তা জয়রাম মোক্তার লোটাকম্বল নিয়ে যশোর ছেড়ে এদেশে চলে এসেছিলেন আর এখানে বাস্তবের আদরিণী, ‘চন্দ্রতারা’ যার নাম, সে নিজেই বাংলাদেশের সীমান্ত ডিঙিয়ে ঢুকে পড়েছে ভারতে। এমনিতেই এখন দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক রাজনীতিক সম্পর্ক মধুর নয়। ফলে হস্তিনীর আসল মালিক কে, তাই নিয়ে ঘনিয়েছে বিবাদ, দানা বেঁধেছে বিতর্ক। মুখের কথায় কাজ না হওয়ায় বিষয়টা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
ঘটনাস্থল ত্রিপুরার ঊনকোটি। বাংলাদেশ তরফের দাবি, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে (১১ সেপ্টেম্বর) এই ঊনকোটির সীমান্তলাগোয়া একটি গ্রামে কাঁটাতার পেরিয়ে এপারে চলে আসে একটি হাতি। রকমসকম দেখে মনে হচ্ছিল বন্য নয়; তাকে ঘরে আদরযত্নে প্রতিপালিত করেছে কেউ। স্বভাবে শান্ত। দামাল নয় মোটেও। তাই তাকে নিজেদের বাসায় রাখার দায়িত্ব নিয়ে ফেলে দুই গ্রামবাসী।
কিন্তু তারপরই দেখা দেয় বিতর্ক। বাংলাদেশ থেকে এক ব্যক্তি, আতিকুর রহমান, এসে দাবি করেন, হাতিটি তাঁর। নিজের ঘরে এতদিন ধরে পুষেছেন তাকে। নাম দিয়েছিলেন চন্দ্রতারা। নজরদারি এড়িয়ে সীমান্ত ডিঙিয়ে এপারে এলে কেউ তাকে নিজের ঘরে বেমালুম রেখে দিতে পারে না।
কিন্তু শুধু মুখের কথায় তো চিঁড়ে ভেজে না। প্রমাণ কই? তার জন্যও যেন প্রস্তুত ছিলেন আতিকুর। চাওয়ামাত্র হাতির সঙ্গে তাঁর ছবি, আধিকারের প্রমাণপত্র সহ যাবতীয় নথির এক কপি পেশ করেন বিএসএফের হাতে। আরেক কপি পাঠিয়ে দেন ত্রিপুরার বন দফতরের কাছে।
এতদূর ঠিক ছিল। কিন্তু দেখা যায়, ত্রিপুরার দুই গ্রামবাসীও একই ধরনের প্রমাণ, নথি তাঁদের তরফে পেশ করেছেন। ফলে বিষয়টা আর সালিশি করে চুকে যায় না। ইতিমধ্যে আদালত পর্যন্ত জল গড়িয়েছে। স্থানীয় আদালত দু’পক্ষের বক্তব্য শুনবে। তার দিন ধার্য হয়েছে আজ। আজই জানা যাবে আদরিণী চন্দ্রতারার মালিক আসল জয়রাম মোক্তারটি কে।